প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৫ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৫ পিএম
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ফাইল ছবি
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ইতোমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে তার মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়েছে।
বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্রের
বৈধতার প্রশ্নে আপিল করলে রবিবার দুপুরে তা মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ আপিল শুনানি
হয়।
মান্নার পক্ষে শুনানিতে
ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোর্তিময় বড়ুয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি শেষে আইনজীবী
সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের জানান, বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না প্রার্থিতা
ফিরে পেয়ছেন।
তিনি বলেন, “বগুড়া-২
আসনে রিটার্নিং অফিসার খুবই খেলো কারণে নাগরিক ঐক্যের সভাপতির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল
দুটি গ্রাউন্ডে- মামলার তথ্য গোপন ও সিগনেচারের তারিখে গড়মিল দেখিয়ে।
“আসলে ব্যাপার হচ্ছে—তার নামে দুটি মামলা ছিল, সেটি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে কাজেই উনি অভিযুক্ত
কখনোই হননি। আরেকটা হচ্ছে, এফিডেভিটে একটা সিগনেচার দুটা পাতায় দুইটা ডেটের একটা গড়মিল
হয়েছে। এই ধরনের ছোটখাট মামুলি ভুল নির্বাচন কমিশনের গ্রহণ করে নিতে হয়। আপিল মঞ্জুর
হয়েছে। সুতরাং এখন থেকে মাহমুদুর মান্না বগুড়া-২ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী।”
এর আগে গত ২ জানুয়ারি
বাছাইয়ে বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট
রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান।
তিনি বলেছিলেন,
“হলফনামার এফিডেভিটে একইদিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু মান্না যেদিন
সই করেছেন, আইনজীবী তার একদিন আগেই সই করেছেন। মান্না যেসব মামলায় খালাস পাওয়ার কথা
লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি আছে।”
এরও আগে মান্নার
নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের
ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি), যারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণগ্রহীতাদের
(ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান) ঋণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে এবং যাচাই-বাছাই করে একটি রিপোর্ট
তৈরি করে।
সিআইবির করা ঋণ খেলাপির
তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য মান্না হাই কোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এ সিদ্ধান্তের
বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেন।
পরে নির্বাচন ভবনে
মান্না সাংবাদিকদের বলেন, এর আগেও তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। তার বিরোধিতা করতে
গিয়ে যে ‘মবক্রেসি’ করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি মনে করেন, জেলা প্রশাসক
বিচলিত হয়ে মনে করেছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোই
ভালো। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।
নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার
পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের এক সময়ের নেতা
মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনও তার সংসদে যাওয়া হয়নি।
এবার বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। মিত্রদলের নেতা হিসেবে বগুড়া-২ আসনটি তাকে ছেড়ে
দেওয়া হয়।
এবার মনোনয়নপত্র
বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল
আবেদন জমা পড়ে। ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া আপিল শুনানি চলবে আগামী
১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে,
শনি, রোব ও সোমবারে অনুষ্ঠেয় ২১০ আপিল শুনানির রায়ের অনুলিপি মিলবে সোমবার।
আপিল নিষ্পত্তি শেষে
২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত হবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা, যাদের ২১ জানুয়ারি প্রতীক
বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি
অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া–২ আসনের
পাশাপাশি ঢাকা–১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
এ আসনে তার মনোনয়নপত্র বৈধও হয়েছে।