প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১১ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৮ পিএম
ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের উত্তরাঞ্চলের সফরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে কি না—প্রশ্নে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এখানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করার ব্যাপার আছে, “নির্বাচন আচরণবিধির কোনো বিষয় নেই”।
দেড় যুগ পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শ্রদ্ধা জানাতে বা পরিদর্শনে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের উত্তরাঞ্চলে চারদিনের সফরে আগামী সোমবার যাত্রা করার কথা তার।
সফরের প্রথম দিন তিনি রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর জাফরপাড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।
রংপুরের আগে অবশ্য তিনি তার নিজের জেলা বগুড়া যাবেন। এছাড়া এই সফরে তিনি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাটেও যাবেন।
ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেসময় এই সফর নিয়ে বিএনপি যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, সে প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় থেকে গত ৫ জানুয়ারি দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারবেন না।
এ নিয়ে এক সাংবাদিক এভাবে প্রশ্ন করেন, “উত্তরবঙ্গ সফরটা নিয়ে … ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যাচ্ছেন, প্রায় চারদিনের সফর এবং আমরা দেখেছি যে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে না। এরপরও তো তিনি এতদিন পরে আসছেন, নেতাকর্মীদের তো একটা ঢল নামবেই। এই ক্ষেত্রে আপনাদের কোনো নির্দেশনা থাকছে কি না?”
এর জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হয়তো অনেকে দেখছে, কিন্তু ২০২৪ এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা, এটা আমাদের দায়িত্ব, জাতীয় দায়িত্ব।
“আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনেক আগেই সেটা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের সেই যাত্রাটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবরে জিয়ারত করা—এটা জাতির প্রত্যাশা।”
জুলাই শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যে সফর, সেখানে নির্বাচনি আচরণ লঙ্ঘন হবে না বলেই মনে করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আমরা ধারণ করি এবং আমাদের সেই চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। তার জন্যই তার (তারেক রহমান) যাওয়া। এখানে নির্বাচন আচরণবিধির কোনো বিষয় নেই।
“এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা দেখি এবং সবাইকে অনুরোধ করব যেন ২০২৪-এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ না করি। আমরা শহিদদের আত্মত্যাগকে যেন আরও মহিমান্বিত করি।”
দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই সফরকে কেবল জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে চায়, যা জনপ্রত্যাশা বলে মনে করছেন দলটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের, আমাদের দেশের সবচাইতে মেজর পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে তার চূড়ান্ত শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে জনাব তারেক রহমান যদি শহিদদের, গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের কবর জিয়ারত করেন এবং সেখোনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন, শ্রদ্ধা নিবেদন করেন—সেটা এই অভ্যুত্থানকে ধারণ করা হবে, জাতির প্রত্যাশাকে ধারণ করা হবে। এবং এটাই জনপ্রত্যাশা, জাতির প্রত্যাশা—এই দৃষ্টিকোণ থেকেই যেন আমরা দেখি।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির যারা বিদ্রোহী প্রার্থী, দল তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে—এক প্রশ্নের জবাবে এমনই বলেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি, সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা তাদেরকে ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।
“সুতরাং তাদের মনোব্যথা আছে; কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি, আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা শান্ত করার চেষ্টা করব। আশা করি সেটার মীমাংসা হবে।”