মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০২ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭ পিএম
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের দাবি উত্থাপন করেছে। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিচার ও ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মূল কারণ।
তাদের দাবিগুলো হলো –
১. তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত পাইলটের ত্রুটি ও স্কুলের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এর পাশাপাশি সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের (অব.) বিরুদ্ধে আনা তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে অর্থ উদ্ধার ও তা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান।
২. শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনে উল্লিখিত রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদি মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে একটি স্থায়ী মেমোরিয়াল নির্মাণ।
৪. প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
দুর্নীতির অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে ব্যাপক দুর্নীতি না হলে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই দুর্নীতির ফলেই পাইলটসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান এবং ১৭২ জন আহত হন।
একই সঙ্গে মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাকেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লাসহ নিহতদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তারা বলেন, ওই দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানটি আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা আগুনে পুড়ে ও দ্বিখণ্ডিত হয়ে নির্মম মৃত্যুর শিকার হন।
তাদের দাবি, বিশ্ব ইতিহাসে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত প্রাণহানির নজির নেই। কোনো কোনো পরিবার তাদের একমাত্র কিংবা একাধিক সন্তান হারিয়ে আজ নিঃসন্তান।
ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের এক অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা তারা ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এমনকি ২৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য প্রস্তাবও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রহণ করবেন না বলেও অভিযোগ করেন জানান তারা।
রিটের অগ্রগতি নেই
হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) প্রসঙ্গে তারা বলেন, এখনও কোনো অগ্রগতি নেই এমনকি উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং নিহতদের আত্মার শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।