× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দাবিদার খণ্ডিত জাপার দুই গ্রুপ

লাঙ্গল তুমি কার?

দীপক দেব

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১১ পিএম

 জাপার বিভক্ত দুই অংশই দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি করেছে লাঙ্গল। ছবি: সংগৃহীত

জাপার বিভক্ত দুই অংশই দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি করেছে লাঙ্গল। ছবি: সংগৃহীত

ফের আলোচনায় লাঙ্গল প্রতীক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা) বিভক্ত দুই অংশই দলীয় প্রতীক হিসেবে দাবি করেছে লাঙ্গল। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই প্রতীক নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি উভয় দলের প্রার্থীরাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক চেয়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল হিসেবে জিএম কাদেরের জাপা প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীক চেয়েছেন। অন্যদিকে হাইকোর্টে চলমান মামলার নথি দিয়ে লাঙ্গল চেয়েছেন ব্যারিস্টার আনিসের জাপা প্রার্থীরা। 

তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনের মধ্যে থেকেই লাঙ্গলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। আপিল শুনানির সময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেবে ইসি। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের নির্বাচন সমনে রেখে জিএম কাদেরের জাপা প্রার্থীরা ২৪৩ আসনে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন ২২৪টি আসনে। এর মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে জাপার বৈধ প্রার্থী হিসেবে টিকে আছেন ১৬৭ জন। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অনুযায়ী লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা এখনও জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন মূল জাতীয় পার্টির। এ ছাড়া ইসির কাছে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের স্বাক্ষরের নমুনা রয়েছে।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গতকাল মঙ্গলবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সকল কাজ হয়েছে। আর গঠণতন্ত্রের বাইরে গিয়ে জিএম কাদের ছাড়া অন্য কাউকে লাঙ্গল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জিএম কাদেরের স্বাক্ষরে প্রতীক বরাদ্দের চিঠিসহ আমাদের জাতীয় পার্টির প্রায় ২০০ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। এই অবস্থায় আইন অনুযায়ী লাঙ্গল মার্কা অন্য কাউকে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ 

অন্যদিকে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ৮১টি আসনে মনোনয়নপত্র নিয়েছিল বলে জানা গেছে। জাপার এই অংশটির নেতৃত্বে ১৭টি নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিয়ে গত ডিসেম্বরে গড়ে উঠেছিল জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। জাপার নেতৃত্বাধীন এই জোটের মাত্র ৭০ জন শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছেন। তবে এরই মধ্যে জোটের শীর্ষ দুই নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ফলে এই জোটের নির্বাচনী কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 

গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে এনডিএফ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরদিন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে এনডিএফের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়ে যায়। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে থাকা দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরের মিল নেই।

এদিকে এই সংকট আঁচ করতে পেরে আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এনডিএফ জোটের মুখপাত্র ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং শীর্ষ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ। তারা মনোনয়নপত্র কিনলেও জমা দেননি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত সরে আসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে তিনি তা জমা দেননি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানতে চাইলে কাজী ফিরোজ রশীদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকার পরও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বারবার সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিখিতভাবে আবেদন করেও কোনো ফলাফল না আসায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে নামালে সেটা কি সম্ভব হবে?’ প্রতীকের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে দলের মুখপাত্র রুহুল আমিন হওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এই নেতা।

আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রী এবং সর্বশেষ সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গত ৯ আগস্ট জাতীয় পার্টি নামে আরেকটি দল গঠিত হয়। উভয় অংশ নিজেদের মূলধারা দাবি করে আসছে। এই অবস্থায় জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রতীক হিসেবে লাঙ্গল পাওয়াকে অপরিহার্য মনে করে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আগামী ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জিএম কাদেরের সঙ্গে তার আইনি লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘যদি লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ না পাই তাহলে আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাব। তবে আইনি লড়াই চলবে। আমরা দলের গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিল করেছি। কাউন্সিলের মাধ্যমেই নেতাকর্মীরা আমাদের বৈধতা দিয়েছেন। আমরাই মূল জাতীয় পার্টি।’

দুই পক্ষই চায় লাঙ্গল প্রতীক : আনিসুল ইসলাম পক্ষের এক নেতা জানান, ‘গত মে মাসে দলের প্রেসিডিয়ামের সভার সিদ্ধান্তে কাউন্সিল আহ্বান করা হয়। সেই কাউন্সিলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। সেই হিসেবে এই জাতীয় পার্টিই লাঙ্গলের মালিক এবং আমাদের প্রার্থীরাই এই প্রতীক পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার।’ 

অন্যদিকে জিএম কাদের অংশের প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘কাউন্সিল আহ্বান করা হলেও তা পরে স্থগিত করা হয়। ফলে যে কাউন্সিলের কথা বলে লাঙ্গল দাবি করা হচ্ছে, তা অবৈধ। জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টিই বৈধ এবং লাঙ্গলের মালিক। দলের প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করবেন।’ 

১৯৮৬ সাল থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে আসছেন। দলটি এর আগে কমপক্ষে পাঁচবার ভাঙনের মুখে পড়লেও এই প্রতীক তাদের হাতছাড়া হয়নি। এবারও আদালতের সিদ্ধান্তে জাপার হাতেই লাঙ্গল থাকবে বলে মনে করেন জিএম কাদেরপন্থী নেতারা।

দলের নিবন্ধন ও প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক স্থানে প্রার্থীদের অবৈধ ঘোষণার মধ্যে গত রবিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ, মুলাদী) আসনে ত্রিধাবিভক্ত জাতীয় পার্টির তিনজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তারা হলেনÑ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. ইকবাল হোসেন তাপস এবং জাতীয় পার্টির একটি অংশের জোট এনডিএফের ফকরুল আহসান শাহজাদা। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘দল থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন সংগ্রহের অনুমতি দিতে পারে। কিন্তু প্রতীক একজনকে বরাদ্দ দেবে। অন্যদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে। তারা চাইলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন না।’ 

যা বলছে কমিশন : জাতীয় পার্টির বৈধ প্রার্থী ও লাঙ্গল প্রতীকের বিষয়টি আইনের মধ্যে থেকে আপিল হেয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। কমিশন বরাবর দায়ের করা আপিল আবেদনসমূহের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফুল কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করবেন। 

জাতীয় পার্টির লঙ্গল প্রতীক নিয়ে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কমিশন হেয়ারিংয়ের সময় তাদের দলীয় মনোনয়ন, প্রতীক আপিলের সময় এসে যাবে। আইনের মধ্যে থেকেই কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এখন পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইটে জাতীয় পার্টির যে তথ্য আছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আইন অনুযায়ী কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

জাতীয় পার্টিকে বাইরে রাখার দাবি এনসিপির : সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) বাইরে রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে থাকুক, কমিশনকে পরিষ্কারভাবে এই কথা বলেছি।’ নাগরিক পার্টির এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কীÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিশন আমাদের কথা শুনেছে। তারা জানিয়েছে, আইনের মধ্যে থেকে বিধিবদ্ধভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা