নির্বাচন
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫১ পিএম
মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। প্রবা ফটো
বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রুটির কারণে ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া মৃত্যুজনিত কারণে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান শুক্রবার ও শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত দেন।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা)
এই আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নের জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় স্বাক্ষর ও তথ্যের গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, বিএনপির এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আসাদুল হক এবং গণফোরামের জুলফিকার আলী।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ)
চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এই আসনে। মনোনয়ন বাতিলের তালিকায় আছেন- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু ও গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সম্পদের বিবরণী দাখিল না করা ও ফেরারি আসামি হওয়ায় শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে। অপর দুই প্রার্থী মিথ্যা তথ্য প্রদানের পাশাপাশি মামলার তথ্য গোপন রেখেছে।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মীর শাহে আলম, জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দিন।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি)
বগুড়া-৩ আসনে পাঁচজনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহজাহান আলী তালুকদারের মামলার তথ্য গোপনের কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
তারা হলেন বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার, জাতীয় পার্টির শাহিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তৌহিদুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নূর মোহাম্মদ।
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম ও কাহালু)
পাঁচজন প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এই আসনে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মোস্তফা ফয়সাল, জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল, এলডিপির কামরুল হাসান মো. শাহেদ ফেরদৌস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহা.ইদ্রিস আলী।
বগুড়া-৫ (শেরপুর ও ধুনট)
বগুড়া-৫ আসনে এলডিপির প্রার্থী খান কুদরত ই সাকলাইনের মনোনয়ন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও সম্পদের বিবরণী ফরম দাখিল না করায় বাতিল করা হয়।
বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জামায়াতে ইসলামীর দবিরুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মীর মো.মাহমুদুর রহমান এ আসনে বৈধ প্রার্থী।
বগুড়া-৬ (সদর)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এই আসনে। তবে সম্পদের বিবরণী, শিক্ষাগত সনদ ও অসম্পূর্ণ হলফনামার কারণে বাসদের দিলরুবা নূরী, ইসলামী আন্দোলনের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ এবং জেএসডির আব্দুল্লাহ আল ওয়াকির মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বগুড়া-৭ (গাবতলা-শাজাহানপুর)
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র মৃত্যুজনিত কারণে কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় বগুড়া-৭ আসনে। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আনছার আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মোরশেদ মিলটন, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।