প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৫৮ পিএম
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৩৮ পিএম
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি : প্রবা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলব জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ঘোষণা দিন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটাধিকারের স্বার্থে আমি পদত্যাগ করলাম, রাষ্ট্রপতিকে বলুন সংসদ বিলুপ্ত করতে। এরপর ওবায়দুল কাদেরকে খেলতে বলুন। দেখবেন রাস্তায় হাঁটতে পারবেন না। মনে রাখবেন বাংলাদেশের মানুষ পাথরের মতো শক্ত আবার কাদার মতো নরম। তারা আপনাকে ক্ষমা করলেও করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিতে জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এতে আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্যাহ ইকবালের সভাপতিত্বে ও সদস্য আবু তালেবের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলে খেলা খেলা বন্ধ করুন। উনি ততো ভালো খেলোয়াড় নন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের সদস্যদের কলঙ্ক আছে। আপনি পদত্যাগ করে তাকে খেলতে দিন। প্রকাশ্যে যদি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
সম্প্রতি গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন নেতাকে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় জানাজায় অংশ নিতে বাধ্য করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? দেশি-বিদেশি সবাই দেখেছেন। মড়ার ওপর ডান্ডাবেড়ি পরান! আপনাদের তো মরা মানুষের ওপর নৃত্য করার অভ্যাস আছে। পৈশাচিক মনোবৃত্তির পরিণতি ভয়াবহ হয়।’
৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, এদিন পুলিশের কারা ডিউটি করেছেন আমরা দু-চার জন চিনলেও তাদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে।
বাধার পরও ১০ বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে সঠিক তথ্য দেয় না। যে তথ্য দিলে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) খুশি হবেন, সেই তথ্য দেয়। গোয়েন্দা সংস্থা সঠিক তথ্য দেবে আপনার পদত্যাগের পর যে সরকার আসবে সেই সরকারের কাছে। কাকে দিয়ে গুম করিয়েছেন, খুন করিয়েছেন তারা তখন হবে রাজসাক্ষী।’
স্বৈরাচার এরশাদ এই সরকারের কাছে শিশু উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘এই সরকারকে কী বলবেন? স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, লুটতরাজ—কোনটা বলবেন?’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা নেই, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ শূন্য। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলছেন টাকা আছে। টাকা আছে আপনার ও আপনার আত্মীয়স্বজনের কাছে। এ টাকা ফেরত দিলে এক বছর নয়, পাঁচ বছরের বাজেট হবে। বিদেশ থেকে ঋণ আনতে হবে না।’
আন্দোলন করি বা না করি এই সরকারকে যেতে হবে উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘এখন আপনারা প্রতিদিন আমাদের কোর্টে নেন। কিন্তু ক্ষমতা থেকে গেলে আপনাদের ২৪ ঘণ্টা কোর্টে থাকতে হবে। আমরা মামলা না করলেও দেশের ১৮ কোটি মানুষ মামলার প্রস্তুতি নেবে।’