প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১৩ পিএম
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ফাইল ছবি
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যেসব সংস্কার জরুরি, তা এগিয়ে নিতে মতের মিল থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার আলোচনা এখনো চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
ঢাকার সিএমএম আদালতে
দুটি মামলায় জামিন নিতে এসে রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন
তিনি।
তিনি বলেন, “সংস্কারের
বিষয়টাকে প্রধান বাস্তবায়নের ইস্যু রেখে, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে গিয়ে, ঐকমত্য কমিশনে
আমরা যখন আলাপ করেছি তখন স্বাভাবিকভাবে জামায়াতের সাথে আমাদের এক ধরনের মতের মিল তৈরি
হয়েছে।
“সেই সব প্রেক্ষাপটে এবং সংস্কারকে বাস্তবায়নের জায়গায় রেখে জামায়াতের সঙ্গে সামনের
নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমঝোতার বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
গৃহীত হয়নি।”
জামায়াতের সঙ্গে
সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে দলের ভেতরে একটি অংশের আপত্তি রয়েছে।
যে কারণে ২১৪ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এরই মধ্যে তাসনিম জারা ও তাজনূভা
জাবীন পদত্যাগ করেছেন।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয়
কমিটির ৩০ জন সদস্য শনিবার দলীয় প্রধান নাহিদ ইসলামকে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
এমন অবস্থায় দলীয়
নেতাদের পদত্যাগ দলে প্রভাব ফেলবে কি না—এই প্রশ্ন করা হয়েছিল আখতার হোসেনের কাছে।
জবাবে তিনি বলেন,
“এনসিপির শুরু থেকে অনেকে আমাদের দলে যুক্ত হয়েছেন। হয়তো অনেকে পদত্যাগও করেছেন। ব্যক্তির
যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্তকে আমরা অবশ্যই শ্রদ্ধা করি। একই সাথে আমরা মনে করি অতীতেও
আমাদের দল থেকে দুয়েকজন বিছিন্নভাবে পদত্যাগ করেছিল, সে সময়েও আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।
“এটা একটা রাজনৈতিক
দলের বিকাশের ক্ষেত্রে পদত্যাগ বা যোগদান করা এটা খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা প্রবাহ।”
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক
ডা. তাজনূভা জাবীন রবিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ফেইসবুকে এক পোস্টে লেখেন, “ভেবেছিলাম,
জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আমি পদত্যাগ দেব। শেষ আশাই ছিলাম। কিন্তু গতকাল (শনিবার)
সবাই নিশ্চিত করেছে এই জোটে সীল পরেছে। আর আবারও বলি, আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না
জোট তার চেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে। অবিশ্বাস, অনাস্থা মূল কারণ।
“দল অনেক বড় হয়ে
স্টাবলিশ করতে পারলে অনেক কিছু বিবেচনা করে ছাড় দেওয়া যেত কিন্তু গঠনের শুরুটাই নাকি
আগে সংসদে যেতে হবে, তারপর ওই যে কজন এমপি বের হবে তাদেরকে কেন্দ্র করে নাকি সংগঠন
বড় হবে। কিয়েক্টাবস্থা।”
সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী
হচ্ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “যাই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত
ভাঙ্গা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।
“সবচেয়ে কষ্ট লাগছে
আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষ্যে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত
নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই
আমার জন্য সঠিক। এখানে ন্যূনতম আশা থাকলে, আমি আমার আত্মসম্মানবোধকেও বোধ হয় ডাউট অফ
বেনিফিট দিতাম।”
আগের দিন শনিবার
সন্ধ্যা ৬টার ৫৬ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করার বিষয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ
যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, এনসিপিতে আর থাকছেন না, স্বতন্ত্রভাবে
নির্বাচন করবেন। সেইভাবে রবিবার তিনি খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী
হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে এই আসনের এক শতাংশ ভোটারের সই সংগ্রহ শুরু করেছেন
এবং তাতে বেশ সাড়া পাওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।