সম্পাদকের ডেস্ক থেকে
মারুফ কামাল খান
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩০ পিএম
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৪১ পিএম
আমি মুগ্ধ, উচ্ছ্বসিত, আলোড়িত। আবেগসঞ্জাত অনুভূতিতে সিক্ত। মঞ্চ তৈরি ছিল, অফুরান ভালোবাসায় ভরা ছিল, শ্রমসাধ্য সব আয়োজন ছিল, উদ্বেলিত জন-মহাসমুদ্র ছিল তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষমাণ। কিন্তু আমি অভিভূত হয়েছি তারেক রহমানকে অনেক ‘হোম ওয়ার্ক’ করে ফিরতে দেখে। পরিমিত দৈর্ঘ্যের ১৭ মিনিটের ভাষণ, সেই বক্তৃতার প্রক্ষেপণ, শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস, বিষয়বস্তুর নির্বাচন এবং তার দৃঢ় আস্থামণ্ডিত অভিব্যক্তি থেকে আমি বুঝতে পেরেছি বিলেতে ১৭টি বছরের নির্বাসিত জীবনের তিনি অপচয় করেননি।তার এ সময় ছিল প্রস্তুতির।
মাতৃভূমি ও এর নাগরিকদের সর্বোত্তম সেবা দিতে তিনি নিজেকে নেতৃত্ব ও পরিচালনার যোগ্য করে গড়েছেন। আবেগকে সংহত করে বাস্তববাদী এক পরিপূর্ণ ও পরিশীলিত রাজনৈতিক নেতার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন। যে তারেক রহমান ১৭ বছর আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে পা রেখেছিলেন ফিরে এসে গতকাল দেশের মাটিতে তার পদার্পণ ঘটেছে অন্য এক তারেক রহমান হয়ে। এ তারেক বুদ্ধি ও জ্ঞান-প্রদীপ্ত, অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, সংযত, সংহত, প্রসারিত দৃষ্টিসম্পন্ন, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধে প্রাণিত এক অন্য তারেক। তিনি যে কেবল দল নয়, দেশ পরিচালনা ও জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বভার বহনে নিজেকে সক্ষম করে গড়েছেন তা তিনি গভীর আস্থার সঙ্গে উচ্চারিত একটি বাক্যে বলে দিয়েছেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কালজয়ী ভাষণের আদলে তিনি বলেছেন, আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। এ প্ল্যান ফর মাই কান্ট্রি। আমি তার উচ্চারিত একটি বাক্য থেকে বুঝতে পেরেছি, দেশ-জাতি-রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বের যে সংকট ও শূন্যতা দেখা দিয়েছে তারেক রহমানই পারবেন সে শূন্যতা পূরণ করতে। শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে ক্রান্তিকালের কান্ডারি হয়েছেনÑ তারেকও সেভাবেই তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে এই দুর্ভাগা জাতিকে অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখাতে সক্ষম হবেন।
দেশে আজ শৃঙ্খলা, শান্তি, স্থিতি, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র ফেরাতে হবে।
ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ সাগরে লক্ষ্যহীন টালমাটাল জাহাজের মতো এ রাষ্ট্রের দক্ষ ক্যাপ্টেনের খালি
আসন পূর্ণ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে। অর্থনীতির পুনর্গঠন করতে হবে। হায়েনার থাবা
থেকে প্রতি ইঞ্চি পবিত্র ভূমিকে সুরক্ষিত করতে হবে। করতে হবে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন।
তারেক রহমানকে তা পারতে হবে। পুরনো অচল রাজনীতি আমাদের পড়া হয়ে গেছে। সেই অধ্যায়ের
পৃষ্ঠা উলটে নতুন অধ্যায় সংযোজন করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানের নবযাত্রা
গতকাল সূচিত হলো মাত্র। প্রবীণের অভিজ্ঞতা ও নবীনের প্রাণশক্তির সমন্বয়ে তিনি তা পারবেনÑ
এ বিশ্বাস আমার আছে।
কিছু কিছু দৃশ্যপট রচিত হয়, যা ক্যামেরার প্রসারিত চোখের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। গতকালের রাজধানী সেই দৃশ্য, সেই চিত্র অবলোকন করেছে। একজন সফল রাজনীতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাতা না হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তারেক রহমান হয়েছেন সে ইতিহাসের স্রষ্টা। তাকে অভিবাদন। তার নতুন যাত্রাপথ সাফল্যে উদ্ভাসিত হোক। তাকে উদ্দেশ করে পরম শ্লাঘায় আজকের শেষ বাক্যটি বলতে চাই : তুমি তো আমাদেরই লোক।