প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৪০ পিএম
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেছেন, গত ১৬ বছর বিরোধীদের দমনে গোয়েন্দারা যে ‘দক্ষতা’ দেখিয়েছিল, ৫ আগস্টের পর তা যেন হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ’ কর্মসূচিতে তিনি এ মন্ত্রব্য করেন।
গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে সব বিরোধীদের দমন করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এত অভিজ্ঞ আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যে, তারা গুম-খুন সব দক্ষতার সঙ্গে করতে পেরেছিল। কিন্তু ৫ অগাস্টের পর তাদের দক্ষতা কোথায় যেন চলে গিয়েছে! তারা এখন আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। তারা খুনিদের বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে পার হতে দিতে পারে। তারা ৭২ ঘণ্টা পার হলেও খুনিকে ধরতে সক্ষম হয় না।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নয়, কোথা থেকে এই খেলা চলছে, সেই ডিপ স্টেটকে নিয়ে আপনাদের কথা বলতে হবে; গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে আপনাদের কথা বলতে হবে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীল। ফলে ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সম্পর্ক রাখতে হবে। ভারত যদি মনে করে, ৫ অগাস্টের পরে তারা আগের মতো বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারসাজি করবে, তাদের সে ভাবনা ভুল। আমরা সবাই মিলে সে ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিব।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। নৈতিকভাবে তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। ৫ অগাস্টের পরে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ফেরত আসেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করা হয়েছে। শহীদ পরিবারদের টার্গেট করা হয়েছে। মামলা উইড্র করা হয়েছে। তারপরও আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের পদে বহাল রয়েছে। আমরা বারবার আপনাদের সতর্ক করেছি।’
এসময় ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কড়া সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘হাদির ওপর গুলির ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যে ইলেকশন কমিশন এ কথা বলে, সেই ইলেকশন কমিশন আর দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার রাখে না। তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব কিনা, এই প্রশ্ন আমরা গত ৬ মাস ধরে করে যাচ্ছি। আমরা আশা করব, তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।’
সমাবেশে গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো মাহফুজ আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদেরকে অনিরাপদ করলে, বাংলাদেশে ভারত ও ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষাকারীদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না। আমাদের হাতে যখন মুজিববাদী, ১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, তখন আমরা নিজেদের সংবরণ করার কারণে আজ তারা এটি করার (ওসমান হাদিকে গুলি) সাহস করেছে। ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব, আর ক্ষমা করব না।’
মাহফুজ আলম আরও বলেন, ‘দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে যারা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে, তাদেরকে হুঁশিয়ার করতে চাই, মুক্তির লড়াইও কিন্তু দেশের বাইরে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। কোনো সুশীলতা করে লাভ নেই; অনেক ধৈর্য হয়েছে। অনেক রিকনসসিলিয়েশন, অনেক কথা বলেছি। আমরা বলেছি, আইসিটি ট্রাইব্যুনালে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করুন। কিন্তু একদিকে বিচার চলছে, অন্যদিকে আইনের ফাঁক দিয়ে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেবেন, ভারত থেকে সন্ত্রাস করবেন, ভাইয়ের উপর গুলি চালাবেন, আমরা এটা বরদাস্ত করব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না।’
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জৈষ্ঠ্য যুগ্ন আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র আলী আহসান জুনায়েদ, আমাদের দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান উপস্থিত রয়েছেন।