প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৪ পিএম
সোমবার ঢাকায় বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আশ্বস্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, তাদের অনেকের মধ্যেই শঙ্কা আছে—এই অন্তর্বর্তী সরকারের পরে নতুন সরকার আসলে তাদের নিরাপত্তার কী ব্যবস্থা হবে। আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, জনগণের ভোটে আমরা যদি নির্বাচিত হয়ে আসি, তাহলে আমরা নিশ্চিত করব যে, জুলাই যোদ্ধা সবাইকে আমরা নিরাপত্তা দেব।’
আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আগামী নির্বাচন আমাদের সেই নির্বাচন, যে নির্বাচনে উদার গণতান্ত্রিক একটা বাংলাদেশ আমরা নির্মাণ করব নাকি একটা পশ্চাৎপদ বাংলাদেশের দিকে ফিরে যাব—এই নির্বাচনে সেই সিদ্ধান্ত হবে।’
এ সময় তিনি একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যে দলটি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা আজকে নতুন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চায়, গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চায়। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিতে চায়।’
বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, আজকে বিভিন্ন রকম ধোঁয়া তুলে, মিথ্যা কথা বলে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধু, আমাদের সহকর্মী, আমাদের সন্তান হাদির ওপরে আক্রমণ হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। আক্রমণকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেখা গেছে, সে আওয়ামী লীগের একজন সন্ত্রাসী। আজকে কেন স্লোগান দেয় তারা যে—বিএনপিকে জবাব দিতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই, বিএনপিকে তারা একটা হীন উদ্দেশ্যে চিহ্নিত করতে চায়।’
বক্তব্যে ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের জেগে ওঠার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘২৫ তারিখ আমাদের নেতা দেশে আসছেন। সেদিন সমগ্র বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে আমরা জাতীয়তাবাদের পতাকা উঁচিয়ে ধরব। দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে জেগে উঠতে হবে।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।