খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৬ পিএম
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন উত্তাপ। বহুল আলোচিত এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী ও বিএনপির আমীর এজাজ খানের নাম ঘোষণা হতেই স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও শক্তির নতুন মেরুকরণ।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থগিত থাকা ৩৬টি আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন। প্রথম দফায় ফাঁকা রাখা খুলনা-১ আসনে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান। তার ঘোষণার পরপরই দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণে মেতে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনে আমীর এজাজ ছাড়াও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ছিলেন। আলোচনায় ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউর রহমান পাপুল এবং ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পার্থ দেব মণ্ডল। তবে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আস্থার কারণে শেষ পর্যন্ত আমীর এজাজই দলের মনোনয়ন পান। তিনি অতীতেও এ আসনে একাধিকবার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, তবে কখনও বিজয়ী হতে পারেননি।
অন্যদিকে, প্রায় ১০ মাসের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামী খুলনা-১ আসনে তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। নতুন প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীর নাম। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনার বিভাগীয় সমাবেশে প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর স্থানীয় নেতাদের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এতে পূর্বের প্রার্থী বটিয়াঘাটা উপজেলা আমির মাওলানা আবু ইউসুফকে সরিয়ে নতুন প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন তারা।
আমীর এজাজ খান বলেন, দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, কৃষ্ণ নন্দীর প্রার্থীতা ঘোষণার পর জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন।