রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৪ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হলে ৩-৫ বছরের মধ্যে আমরা সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত হব। আমাদের সম্পদের অভাব নেই। তবে মুল সমস্যা দুর্নীতি। বিগত ৫৪ বছর ক্ষমতায় থেকে তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে। সাড়ে ১৫ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে সৎ, দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত জামায়াতসহ আট দলের উদ্যোগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকালে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিভাগীয় সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আদালত পর্যন্ত তারা নিয়ন্ত্রণ করেছে। সাড়ে ১৫ বছরের গণবিস্ফোরণ হলো, যাকে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলছি। আমরা আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাই আগামী নির্বাচন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচনে এসব দলের ইসলামের পক্ষে ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের জনগণ বাছাই করে নেবে।’
তিনি বলেন, জনগণ এমন প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে চায়, যারা আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে, কারও প্রেসক্রিপশনে চলবে না। আমরা তিস্তার পানি পাচ্ছি না, পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ভোটের চরিত্র পাল্টাতে হবে। যেহেতু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন বিষয়ে একমত হতে পারছে না, তাই জনগণ গণভোট দিয়ে সমাধান করবে। তারা ঠিক করে দেবে কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক। কিন্তু একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হলে গণভোটের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, আগের মত গুন্ডামী ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যের মাধ্যমে জাগ্রত জনতাকে থামানো যাবে না। আল্লাহর রহমতে ইসলামের বিজয় হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনীতি করি ব্যক্তি কিংবা দলের স্বার্থে না, আল্লাহর হুকুম তামিল করতে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর আজ সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস পড়ার সময় আমাদের নিয়ে কলংকজনক ইতিহাস রচনা করবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদি, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।