প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০০:০৮ এএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।
গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি এখন বিদেশে নেওয়ার মতো নেই বলে জানিয়েছেন, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানান তিনি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, আমেরিকার জন হপকিন্স এবং লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন। তার শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসায় করণীয় নানা বিষয় নিয়ে গত রাতে (২৮ নভেম্বর) প্রায় দুই ঘণ্টা মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করেছে।
বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, শারীরিক অবস্থা আল্লাহর অশেষ দয়ায় যদি স্টেবল হয় তখন চিন্তা করে দেখা হবে যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে কি না। তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রয়েছে- ভিসা, যেসব দেশে যাওয়া সম্ভব হতে পারে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা- এ ব্যাপারগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলোর কাজ মোটামুটি এগিয়ে আছে। অর্থাৎ যদি প্রয়োজন হয় এবং যদি দেখা যায় যে রেডি টু ফ্লাই তখন তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তার অসুস্থতায় সবাই উদ্বিগ্ন, উৎকন্ঠিত এবং অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রতবোধ করছেন। হাসপাতালে অন্যান্য রোগী আছেন, তাদের সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সকলের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই যে আপনারা দয়া করে কেউ হাসপাতালে ভিড় করবেন না, সময় মতো তার হেলথ সম্পর্কে জানানো হবে। সেটা আপনারা জানবেন। আবার অনুরোধ করছি, দয়া করে কেউ সেখানে উপস্থিত হবেন না।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ উনি নিজে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছেন, এরপরে আমার আর আসলে কিছু বলার নেই। পোস্টের ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না, কারণ আমাদের দলের প্রধান তিনি তার পোস্ট দিয়েছেন, এর ব্যাখ্যাটা আমি ঠিক দিতে পারব না এ মুহূর্তে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসায় কোনো বাধা দেখছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আমি কোনো বাধা দেখি বা না দেখি এটা গুরুত্বপূর্ণ না, উনি যে পোস্টটা দিয়েছেন এটাকে আপনারা আপনাদের মতো ধরে নেন। দিস ইজ পোস্ট- তার ভাষ্য এটা। আর তো কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদাকে জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া, এর সঙ্গে রয়েছে- কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। পরিস্থিতি এমন—একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলেন দলের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। অপরদিকে, তার সুস্থতা কামনা করে বিএনপির পক্ষ থেকে শুক্রবার সারা দেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।