× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আ.লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

দিনে সুনসান, রাতে হকারদের গুদাম

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৮ পিএম

এটি আওয়ামী লীগের সদামুখরিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়। একসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি বরাদ্দ ‍দিয়েছিলেন। হালে সেটির অবস্থা। প্রবা ফটো

এটি আওয়ামী লীগের সদামুখরিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়। একসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি বরাদ্দ ‍দিয়েছিলেন। হালে সেটির অবস্থা। প্রবা ফটো

একসময় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক আর নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখর থাকা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম-নিষিদ্ধ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি এখন নীরব-নিস্তব্ধ। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই এই কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়, লুট করা হয় আসবাবপত্র। ভেঙে নষ্ট করা অবকাঠামো। আগুনের ধোঁয়া মিলিয়ে যাওয়ার পর ভবনের নিচতলা পরিণত হয় গণশৌচাগারে। পরে গুলিস্তানে অবস্থিত পোড়া ভবনটির গায়ে টাঙানো হয় দুটি ব্যানারÑ ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম গবেষণা ইনস্টিটিউট’ ও ‘গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’। ভবনের সামনের অংশে লাগানো হয় লোহার গেট। কিন্তু ব্যানারে লেখা নামের মতো কোনো গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়নি আজও। কে বা কারা এই সংস্থার সঙ্গে জড়িতÑ তাও জানা যায়নি। 

পরিত্যক্ত ভবনটিতে চলতি মাসের ১৩ তারিখে আবার অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। ভবনটির সপ্তম তলার দেওয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধুর টেরাকোটা ভাঙচুর করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সেদিন লকডাউন কর্মসূচি দেয় আওয়ামী লীগ। আরও কর্মসূচি প্রতিহত করতে সকাল থেকেই ভবনটির সামনে অবস্থান নেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও জুলাইযোদ্ধা সংসদ নামের সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আওয়ামী লীগবিরোধী আরও কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা। সেদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে নতুন করে  পোড়ে ভবনটি। 

ক্ষমতার মসনদ উল্টে যাওয়ায় সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি। দিনে সুনসান, রাতে সেখানে রাখা হয় হকারদের চৌকি ও পণ্য। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির কার্যালয়ের সামনে বসে ফুটপাতের দোকান, পার্কিং করা হয় ব্যক্তিগত গাড়ি। আগুনের পর ভবনটি একবার পরিষ্কার করা হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কেউ।

আশপাশের দোকানদারদের ভাষায়, ভবনের নিচতলা এখন হকারদের গুদাম। দলটির কোনো পরিচিত নেতাকর্মী সেখানে আসে না। বিভিন্ন সময় সাংবাদিক ও কৌতূহলী মানুষ ছবি তুলতে এলে সামান্য কৌতূহল সৃষ্টি হয়। একজন হকার বলেন, ‘রাতে এখানে চৌকি রেখে যাই, সকালে নিয়ে গিয়ে ফুটপাতে দোকান বসাই।’

দোকানদার আনোয়ারের বর্ণনায়, আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম গবেষণা ইনস্টিটিউটের ব্যানার টাঙানোর পর ভবনটির নিচতলা পরিষ্কার করা হয়েছিল, তারপর আর কোনো কার্যক্রম দেখিনি। রাতে হকাররা চৌকি রাখে, দিনে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয় না।

ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে এক ব্যক্তি বাধা দেন। নাম তার মোস্তাক হোসেন, বাড়ি দিনাজপুর। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তিনি প্রবেশের অনুমতি দেননি। তিনি জানান, চলতি নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে ভবনটির দেখাশোনার দায়িত্ব তার হাতে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও হকাররা মিলে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে গেট দুটি ভেঙে পড়ে যায়, একটা মেরামত করা হয়েছে। আরেকটিও মেরামত করা হবে। ভেতরে কোনো লোকজন থাকে না। উঁকি দিয়ে দেখা গেছে, ভেতরে পড়ে আছে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার, হকারদের চৌকি আর কাপড়ের বান্ডিল।

কেবল কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও একইভাবে আগুন দেওয়া হয়। সেখান থেকেও লুট হয় মালামাল। তখন থেকে এই তিনটি ভবনই কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের পর গুলিস্তানে পরিত্যক্ত অনেক ভবনই খালি পড়ে ছিল। সেগুলোর মধ্যে একটি বর্তমান আওয়ামী লীগ কার্যালয়Ñ ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর পুরনো বাড়ি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ অফিসটিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে বরাদ্দ দেন। ১৯৮১ সাল থেকে এটি দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আট কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই ভবনটি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে পুরনো ভবনটি ভেঙে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন ১০ তলা কার্যালয়। ২০১৮ সালের ২৩ জুন এর উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা