খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৪ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রত্যেক ওসি, এসপি, ডিআইজি, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী সবাইকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। ১৪, ১৮, ২৪ সালের মতো নির্বাচন হলে জাতির দুর্ভোগ নামবে। আগে যারা দলের পক্ষে কাজ করেছে অনেকে পালিয়েছে, অনেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির। এবার যদি কেউ অন্যায় করে, পালানোর পথ পাবেন না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে খুলনার জিরো পয়েন্টের পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ।
তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছেন, অনেক দল, অনেক মার্কার নির্বাচনে আমরা দেখেছি আমাদেরই ভাই-বন্ধুরা সেই সব দলে ভোট করেছেন। আমরা নৌকা মার্কা দেখেছি, আমরা লাঙ্গল দেখেছি, আমরা ধানের শীষ দেখেছি। ৫৪ বছরের প্রত্যেকটি শাসনে, রাষ্ট্রে দুর্নীতি হয়েছে, সন্ত্রাস হয়েছে। ভিন্ন মতকে দমন করা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বাসস্থানের সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, মানব রচিত কোনো মতবাদ দিয়ে রাষ্ট্র চালালে মানুষের জীবনে শান্তি আসে না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৪-এর ঐতিহাসিক জুলাইয়ের ছাত্রগণ অভ্যুত্থানের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে একটি কালো যুগ পেরিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের শৃঙ্খল ছিঁড়ে এক নতুন বাংলাদেশের জন্য যাত্রা শুরু করতে সাহায্য করেছেন। বছরের পর বছর বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, কারাগারে নেওয়া হয়েছে, হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে, রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, ক্রসফায়ারে, আয়নাঘরে, কারাগারে ঢুকিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে মেধাবী তরুণরা ৫৪ বছরের প্রচলিত তিনটি দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, আমরা বাংলাদেশকে বদলে দিতে চাই। ওরা যদি বদলে দিতে পারে, আমরাও বাংলাদেশকে বদলে দিতে চাই।
তিনি বলেন, গ্রামে গঞ্জে দাড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এখন টাকার খেলা চলছে, অবৈধ টাকা দিয়ে গরিব মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু টাকায় গরু-ছাগল কেনা যায়, মানুষের বিবেক কেনা যায় না।
তিনি ডুমুরিয়া, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও আশপাশের মানুষের উদ্দেশে বলেন, বিরিয়ানির প্যাকেট বা টাকার বান্ডিল যারা দিচ্ছে, বুঝবেন তাদের উদ্দেশ্য অসৎ। তারা নিজেরাই বলছে মনোনয়ন আনতে ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, জিতলে ১০০০ কোটি টাকা ওঠাতে হবে। দুর্নীতির এ সুযোগ মানুষ দেবে না।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, হিন্দু ভাইয়েরাও এবার দাড়িপাল্লার স্লোগান নিয়ে জেগে উঠেছেন। তারা বলছেন চরিত্রবান নেতা এলেই আমরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকব। অতীতে যারা ঘর দখল, মন্দির ভেঙেছে, তারা সেই সব দলের লোক যাদের আপনারা ভোট দিয়েছেন। এবার দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে আপনারা সবচেয়ে শান্তিতে থাকতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাটি খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, চুকনগর, আঠারোমাইল, রুদাঘরা, রঘুনাথপুর, শাহপুর, ধামালিয়া, জামিরা, ফুলতলা, দামোদর হয়ে শিরোমনি শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ৫ হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
খুলনার জিরো পয়েন্টের পথ সভায় সভাপতিত্ব করেন, হরিণটানা থানা আমীর জি এম আব্দুল গফুর। বক্তৃতা করেন খুলনা-১ আসনের (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আযম হাদী, শেখ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মোস্তফা আল মুজাহিদ, আশরাফুল আলম, খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ ফকির ও সেক্রেটারি ইলিয়াস হোসাইন, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম, খানজাহান আলী থানা আমীর ডা, সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, হরিণটানা থানা সেক্রেটারি এডভোকেট ব ম মনিরুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, গাজী সাইফুল্লাহ, গাজী মোর্শেদ মামুন, মাওলানা সাইফুল হাসান, আব্দুর রশিদ, মোমিনুর রহমান, লিমন, মফিজুর রহমান, আবু তাহের, ইমরান হোসেন, আব্দুস সাত্তার, আল আমিন গোলদার, আলী আকবার মোড়ল, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।