প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে রাজনীতিবিদরা বিচ্ছিন্ন। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো নতুন ধরনের রাজনীতি আনতে পারিনি বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
তিনি বলেন, সবগুলো দলই আগের রাজনীতিই করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি- অর্থ, অস্ত্র, বিত্ত ও পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়েই বাংলাদেশে রাজনীতি করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
সামান্তা শারমিন বলেন, এখানে সিভিল সোসাইটির ওপর এক ধরনের প্রেশার ক্রিয়েট করা হয়, সিভিল সোসাইটিও পাল্টা প্রেশার ক্রিয়েট করে। এটার মধ্য দিয়ে যে জিতবে, সেই তৎক্ষণাৎ জয়ী।
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি রাজনীতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে টেনে বের করতে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ হওয়ার কথা ছিল। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভারত ও পাকিস্তানের টানাটানির মধ্যে বাংলাদেশ আবারও নিমজ্জিত হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে এনসিপি নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-মিটিং করছে বা করার চেষ্টা করছে। আমরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করছি। একদিকে আমরা মিছিল-মিটিং প্রতিহত করার চেষ্টা করছি, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি দিয়েই আমরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর করাচ্ছি। আমরা একটা দিকেই বারবার ধাবিত হচ্ছি এবং জনগণের সঙ্গে মোটাদাগে প্রতারণার চেষ্টা করছি, এটির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াচ্ছে?
জাতীয় ঐক্য কার জন্য? এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, এটা আপনার-আমার স্বার্থের বিষয় না, দলগুলোর স্বার্থের বিষয় না—এটা জনগণের স্বার্থের বিষয়। বাংলাদেশকে যদি আপনি পরিবর্তন করতে চান, দলীয় স্বার্থ পুরোটা বাদ দিতে হবে। এটা যেমন এনসিপিকে দিতে হবে, তেমনি বিএনপি-জামায়াতসহ সব দলকে দিতে হবে।
এই দ্বিদলীয় স্বার্থের টানাটানির মধ্যে আমরা আর বাংলাদেশকে পড়তে দিতে পারি না, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির সাইন করার যে ব্যাপারটা, এটা কিন্তু বাংলাদেশে একটা দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা এনে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বৈঠকে সবাইকে জাতীয় ঐক্যের প্রতি সমর্থন ও সেই অনুযায়ী কাজ আহ্বানও জানান এনসিপির এ নেত্রী।