নির্বাচনী আসন চাঁদপুর‑১ অর্থাৎ কচুয়া এলাকা থেকে উঠে আসা কৃতি সন্তান এহসানুল হক মিলনের রাজনৈতিক যাত্রা প্রথম থেকেই ছিল ঊর্ধমুখী।
১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ কচুয়া উপজেলায় তার জন্ম। অতি শৈশব থেকে মিলন শিক্ষা ও রাজনীতিতে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন। ঢাবি থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমবিএ এবং মালয়েশিয়া থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর‑১ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হয়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসন ধারণ করেন এবং ওই সময় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
'অপ্রতিরোধ্য মিলন' উপাধি তিনি পেলেন এ কারণে যে শুধু জয়লাভে তার যাত্রা থেমে যায় না। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও উন্নয়নমুখী কাজের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি সদা সক্রিয়।
তার এমন উত্থানের পেছনে রয়েছে কিছু বিশ্লেষণমূলক কারণ আছে। প্রথমত, তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও তিনি জানেন কিভাবে নিজের ভিত্তি মজবুত করে রাখতে হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।
দ্বিতীয়ত, কচুয়া উপজেলার একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সময় দিয়েছেন স্থানীয় জনসচেতনতা ও সমস্যা সমাধানে। এজন্য জনগণ তাকে নিজেদের অধিকারপ্রদানকারী প্রতিনিধি রূপে মনে করে।
তবে মিলনের পথ অবশ্যই মসৃণ ছিল না। বিচার সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখে তিনি পড়েছেন। নানা মিথ্যা অভিযোগ-মামলার মধ্যেও থেমে যাননি এই লড়াকু নেতা। এইসব হয়রানি-মামলা তার জনপ্রিয়তা বা কার্যক্রমকে স্বল্প হলেও প্রভাবিত করেছে। কিন্তু তিনি সেই চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় চাঁদপুর‑১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। স্থানীয় মানুষের চাওয়া ও প্রত্যাশার দিক থেকে দেখা যায়, যদি মিলন তার প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে রূপায়িত করতে সক্ষম হন তবে এই আসনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তার পক্ষেই বজায় রাখতে পারার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় মিলনের অপ্রতিরোধ্যতা শুধুই ভোট‑সংখ্যার বিষয় নয়। এটি তিনি গড়েছেন রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা, স্থানীয় জনসংযোগ ও ব্যক্তিগত ক্যারিশমার সমন্বয়ে। এই কারণেই তিনি চাঁদপুর‑১ আসনের মানুষের হৃদয়ে এক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছেন। আগামী দিনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলে এই এলাকার উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বশীলতা আরও দৃঢ় হবে এই প্রত্যাশা স্থানীয় মানুষদের প্রায় প্রত্যেকের। [লেখক পরিচিতি : তুহিন ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি এবং সভাপতি, প্রবাসী কচুয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম ]