বিএনপি
মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:২৮ এএম
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষ করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দুয়েক দিনের মধ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। এরপরই একক প্রার্থীকে মনোনয়নের কথা জানানো হবে। গতকাল সোমবার শেষদিনে পাঁচ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। এতে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দল মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে নেতাদের বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐক্যবদ্ধ না থাকলে সামনে আরও কঠিন সময় আসবে বলে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত রবি ও সোমবার- এই দুই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ১০ সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকা হয়। আসনভিত্তিক মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কিন্তু মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতাকে গুলশান কার্যালয়ে ডাকাই হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে নিয়োজিত কতিপয় সদস্য নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অনেক প্রার্থীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে ডাকেননি।
বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অনেক যোগ্য প্রার্থী ডাক পাননি। আবার অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকেও মতবিনিময় সভায় দেখা গেছে। এটা দুঃখজনক। শুনেছি আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে ফোন করা হয়েছে। বিএনপির এসব কার্যক্রম একজন প্রভাবশালী নেতার কুক্ষিগত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিএনপির অপর একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিএনপির দপ্তর ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা বিভিন্ন সময় দলের অভ্যন্তরে বিভাজনকে উস্কে দিচ্ছে। নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত এই সিন্ডিকেট।
যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু কুমিল্লা-৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এবার তাকে ডাকা হয়নি।
মোরতাজুল করিম বাদরু বলেন, বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। যুবদলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিটি নির্দেশ মেনে রাজনীতি করেছি। কিন্তু এখন কর্মীর মূল্যায়নও পাচ্ছি না। তাকে কেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মতবিনিময়ে ডাকা হয়নি, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান।
নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সাব্কে একাধিকবারের এমপি মরহুম নূরুল আমিন তালুকদারের ছেলে রায়হান আমিন রনি ওই আসনের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাকেও ডাকা হয়নি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল মোতালিব খান। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। এই আসন থেকে ৫-৬ জন নেতাকে ডাকা হলেও তিনি ডাক পাননি। আব্দুল মোতালিব খান বলেন, অজানা কারণে আমাকে ডাকা হয়নি। দুর্দিনে দলের পাশে ছিলাম। এখন অবহেলিত হচ্ছি। এতে নির্বাচনী এলাকায় কর্মী-সমর্থকরা হতাশ হয়েছেন।
এছাড়া নওগাঁর আনোয়ার হোসেন বুলু, খুলনার শরীফ শাহ কামাল তাজসহ অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীকে মতবিনিময় সভায় ডাকা হয়নি। তাদের অভিযোগ- তাদের চেয়ে কম জনপ্রিয় ও অযোগ্য প্রার্থীদেরও গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। অথচ তাদের ডাকা হয়নি।
জানা গেছে, রাজশাহীর ছয়টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন অর্ধশতাধিক। তবে সীমিত সংখ্যক গুলশান কার্যালয়ে ডাক পেয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মনোনয়নপ্রত্যাশী ডাক না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের সমর্থকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। তবে ক্ষোভ প্রকাশকারী মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের সমর্থকরা সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে মিডিয়ার সামনে নাম প্রকাশ করছেন না। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন অন্তত দশজন। এ আসন থেকে গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি সুলতানুল ইসলাম তারেক এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব। এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই ডাক পাননি। তাদেরই একজন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গুলশান কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্বে ছিলেন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এক্ষেত্রে তারা চরম পক্ষপাতিত্ব করেছেন। শুধু রাজশাহী নয়, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, ঢাকা, বরিশালসহ সব বিভাগেই এমন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।