× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হিংসার রাজনীতি বিএনপি চায় না : মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:১০ পিএম

হিংসার রাজনীতি বিএনপি চায় না : মির্জা ফখরুল

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে থাকাটাই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। একটা কথা আছে- ‘শত ফুল ফুটতে দাও একটা বাগানে, শত ফুলের সৌরভটা আমাদের মাঝেও ছড়িয়ে যাবে’Ñ কথাগেুলো বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  তিনি বলেন, হিংসার রাজনীতি আমরা চাই না। আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা কখনই হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিতে চাই না। আমরা চাই, একটা শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হোক, এটাই আমাদের চাওয়া। 

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে ‘সুধী সমাজ, হিন্দু ধর্মালম্বী ও মহিলা সমাবেশের’ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্ব, সেটাকে ভুলে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। ঠিক তেমনি ২০২৪ এর ৫ আগস্টকে আমরা ভুলবো না, কারণ এদিন আমাদের ছেলেরা রক্ত দিয়ে আমাদের ওপর যে দানব স্বৈরাচারকে সরিয়ে দিয়েছে। সুতরাং, সেটাকেও আমরা কোনোদিন ভুলতে পারব না। এই যে একসঙ্গে সকলকে নিয়ে চলা এটাই হবে নতুন বাংলাদেশ। 

তিনি বলেন, আপনাদের বারবার যেটা বলতে চাইÑ ভাগাভাগি আর কইরেন না, দেশটার বহু ক্ষতি হয়ে গেছে, আর ক্ষতি আমরা করতে চাই না। আমরা সবাই মিলে এই বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে সুন্দর করে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা ভালোবাসার মধ্যে প্রেমের মধ্যে, সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের মধ্যে আমরা দেশটাকে তৈরি করতে চাই। এটাই হচ্ছে মূল কথা। 

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলবে, এটাই তো গণতান্ত্রিক অধিকার; অনেকেই নির্বাচন করতে আসবে কোনা অসুবিধা নেইতো; জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। সুতরাং, এগুলো কোনো সমস্যা না। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের মানসিকতার। মন-মানসিকতা আমাদের ঠিক রাখতে হবে, এটা যদি ঠিক রাখতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই সবাই মিলে আগে যেভাবে বসবাস করতাম ঠিক সেভাবেই বসবাস করতে পারব। সকল রাজনৈতিক পার্টিকে উদ্দেশ্যে করে মির্জা ফখরুল বলেন, সকল রাজনৈতিক পার্টির জন্য আমরা একটা বক্তব্যÑ  দয়া করে দেশটাকে বাঁচান, এখন আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। এখন আর ভিন্ন কোনো দাবি-দাওয়া তুলে গণভোট হতে হবে না হলে হবে না বা পিআর হতে হবে না হলে ভোট হবে না! আচ্ছা আপনারা পিআরটা বোঝেন? আপনারা এখানে শিক্ষিত মা-বোনেরা আছেন? পিআর কেউ বোঝে নাÑ তাহলে সেটা কেমন করে হবে। ভোটটা পিআরকে দেব, না আলমগীর সাহেবকে দেব, না দেলোয়ার সাহেবকে দেব? 

পিআর সম্পর্কে জনগণের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, পিআর হচ্ছে মানুষকে মানে প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার দরকার নেই, দলটাকে ভোট দিতে হবে। এখন কথা হলো- আমি তো জানি আমার প্রার্থী কে, আমার এমপি কে, এখন আমার প্রার্থীকে যদি ভোট দিতে না পারি তাহলে আমি যাবো কার কাছে? এই জিনিসগুলো মাথার মধ্যে নিতে হবে। তিনি বলেন, ঠিক আছে পিআরের কথা আমরা আলোচনা করি, তর্ক-বিতর্ক করি কিন্তু সেটা পার্লামেন্টে গিয়ে করি। আমরা বলেছি, আসুন পরবর্তী পার্লামেন্টে তর্ক-বিতর্ক করে যদি দেশের জনগণ পিআর চায় তাহলে আমরা সেটা করব। না ওরা এসব শুনবে না, তারা মিছিল করে যাচ্ছে পিআরের জন্য, এখনো মিছিল করে যাচ্ছে। প্রত্যেকদিন মিছিল করে যাচ্ছে আর বলছে, পিআর চাই, পিআর চাই! পিআরটা কি সেটাই তো আমরা বুঝিনারে ভাই। 

যারা পিআর চাচ্ছে তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দয়া করে নির্বাচনটা তাড়াতিড়ি করতে দেন। আগে মানুষ বাঁচুক। যে অস্থিরতার মধ্যে মানুষ আছে সেই অস্থিরতা কাটুক। 

মির্জা ফখরুল অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবেÑ সঠিক সিদ্ধান্ত  দেবেন। আর দলগুলোর প্রতি আমার আবেদন- সমস্ত দাবি দাওয়া এখন বন্ধ রেখে, আর কিছু প্রতিষ্ঠান আছে তারাও দাবি-দাওয়া তুলছে; এসব আন্দোলনের উদ্দেশ্যেটা ভালো না। নির্বাচনটাকে পণ্ড করতে চায়। আমরা তো ভোট দিতে চাই, জনগণও ভোট চায়। দয়া করে এসব বাদ দিয়ে নির্বাচনটা শেষ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একটা প্রতিনিধি আসুক, তারপর এসব বিষয়গুলো নিয়ে আরও তর্ক-বিতর্ক করা যাবে, আরও কথা বলা যাবে এবং কাজ করা যাবে। 

তিনি বলেন, আমরা একজন মানুষ, একটা ভোট, যাকে খুশি তাকে দেব, তাই না। এই ব্যবস্থাটা এবার পরিবর্তন হচ্ছে- এবার দুইটা পার্লামেন্ট থাকবে, একটা নিম্ন কক্ষ আরেকটা উচ্চ কক্ষ। নিম্নকক্ষে আমরা যারা যাবো সবাই নির্বাচিত হয়ে যাব, আর যারা পার্লামেন্টে যাবে- তাদের প্রতিনিধির সংখ্যা থাকবে; সেই সংখ্যা অনুযায়ী উচ্চ কক্ষে যাবে। এরপরেও বিভিন্ন সেক্টরের কিছু মানুষ যেমন- হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ, আলেম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ, আর পণ্ডিত মানুষ যারা আছেন তাদের কিছুসংখ্যক মানুষকে মনোনয়ন দেওয়া হবে আসার জন্য। এভাবেই এমন একটা পার্লামেন্টে তৈরি করা হবে, যে পার্লামেন্টে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধি থাকবে, এখানে কোনো দলের একক কর্তৃত্ব থাকবে না। গত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দিতে পারেনি, নির্বাচন হতে দেয়নি, দেখিয়ে দিয়েছে নির্বাচিত হয়ে গেছে তাই না; সেই জিনিস থেকে আমরা মুক্তি পাব। 

ফখরুল বলেন, এখন নতুন একটা সুযোগ আসছে আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করার, দেশটাকে সুন্দর করে সাজানোর। এখন সুন্দর করে সাজাতে আমরা চাই। আমরা চাই, অনেক মত থাকবে, অনেক মতকে একখানে আনতে হবে পার্লামেন্টে, সেই পার্লামেন্টের তর্ক হবে, বিতর্ক হবে এবং সেখান থেকেই মানুষ একটা সিদ্ধান্ত পাবে। দেশটা সেভাবেই চলবে, আর সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যারা পাবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যদি নির্বাচিত হতে পারি আমাদের প্রথম কাজ কি হবেÑ এই যে এত বেকার, আমাদের ছেলেরা পাস করে চাকরি পায় না! এই চাকরির নিশ্চয়তা করার জন্য আমরা ১ কোটি মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করব, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। 

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, গড়েয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেদো শাহ চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা