প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৩০ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:২৯ পিএম
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাম দলের নেতাদের শ্রদ্ধা। ছবি : প্রবা
অসাম্প্রদায়িক, অর্থনৈতিক শোষণমুক্ত মানবিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্নে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের সেসব চেতনা কেবল কাগজে-কলমে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাম দলগুলোর নেতারা। তারা বলেছেন, বায়ান্ন বছরের পথচলায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জনগণ ভোটবিমুখ হয়ে পড়ায় মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘একান্ন বছর আগে যে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই লক্ষ্য-আদর্শ থেকে দেশ অনেক আগে বিচ্যুত হয়েছে। গণতন্ত্র কখনও এ দেশে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারেনি। শ্রেণি-বৈষম্যের সঙ্গে এ দেশে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকে পড়েছে।’
একাত্তরের মূল চেতনা বাস্তবায়নে দেশে শ্রেণি-বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক।
ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের কথা সরকার মুখে মুখে যত বলুক না কেন, পুরো ব্যাপারটি থেকে গেছে কাগজে-কলমে। যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রণয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, তা অর্থবহভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আইয়ুব সরকার বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, সেই ভোটাধিকার কি এখন বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে? এই কর্তৃত্ববাদী সরকার মানুষের ভোটাধিকার তথা গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি কাজ করছে না?’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্পষ্ট ঘোষণা ছিল বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সাম্য মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করবে। আজকে একান্ন বছর পর এসে আমরা দেখছি রাষ্ট্রের বাহিনীগুলো মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। রাতের বেলা তারা ভোটের ব্যালটবক্স জাল ভোটে ভর্তি করছে। মুক্তিযুদ্ধের যে ঘোষণা তার বিপরীতে চলছে বাংলাদেশ।’
‘বিরোধী দল ও মতকে দমনের ধারা তো পাকিস্তান আমলেও ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার আজকে দেশে এক যুদ্ধংদেহী অবস্থা তৈরি করেছে। নিজেরা নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে তৃতীয় কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। অথচ তারা বুঝে না যে, তৃতীয় কোনো শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে সেটা যে তাদের জন্য ভালো হবে না, সেটা তারা বোঝে না।’
এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেন জোনায়েদ সাকি।
তিনি বলেন, ‘আজকে কর্তব্য হচ্ছে আবার নতুন করে জাগরিত হয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেটা করতে হলে আমাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথা ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব না। এই ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবং রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজকে সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হওয়া দরকার।’