ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০৩ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০৩ পিএম
প্রবা ফটো।
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার কারণে আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘মতপ্রকাশ থেকে মৃত্যু: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের ব্যানারে সবচেয়ে সুন্দর স্লোগান হতো—‘লেন্দুপ দর্জি থেকে হাসিনা’। আমাদের বাংলাদেশে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী শক্তি হাসিনাকে আরেকটি লেন্দুপ দর্জি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সব নীতিতে সবার আগে থাকা উচিত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের স্বার্থ। তাহলেই বাংলাদেশ পথ হারাবে না।
ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, আমরা বাহুর চাইতে মেধাকে গুরুত্ব দিই। আমরা কলম ধরি, মেধার বিকাশ ঘটাই এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য মেধা ব্যবহার করি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বহু রক্ত দিয়েছি—আর রক্ত দিতে চাই না। আমরা মেধার মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। ভালো আদর্শ দিয়ে খারাপ আদর্শের বিলুপ্তি ঘটাই, ভালো রাজনীতি দিয়ে খারাপ রাজনীতির বিলুপ্তি ঘটাই।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেন, ভারতের সঙ্গে করা সব দেশবিরোধী চুক্তি এবং অন্যায় পানিবণ্টন নিয়ে আবরার ফাহাদ সোচ্চার ছিলেন। এজন্যই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোসহীন ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আবরার ফাহাদকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিনই আমরা প্রথম খবর পেয়েছিলাম এবং প্রতিবাদও করেছি। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আমাদের প্রতিবাদ চলছিল। আবরার হত্যার পাঁচদিন আগেও যারা ছাত্রলীগের পদের আশায় ছিল, তারা আজ সাহসিকতার গল্প শোনায়। যারা ছাত্রলীগের লুঙ্গির আড়ালে আবরারের হত্যায় সহযোগী ছিল, তারা এখন বড় বড় কথা বলে। আবরার ফাহাদের খুনিদের মামলা লড়েছেন শিশির মনির, যিনি ৫ আগস্টের পর বিখ্যাত হয়ে গেছেন। খুনিদের অনেকের পরিবার জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, যতদিন আবরার ফাহাদের স্মরণসভা হবে, ততদিন আমরা জামায়াত-শিবিরের মুনাফেকি রাজনীতিকে স্মরণ করিয়ে দেব। যারা ছাত্রলীগের লুঙ্গির আড়ালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।