× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফার্মাসিস্টদের হাতে স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৪ পিএম

ফার্মাসিস্টদের হাতে স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। এই দিনটি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত অবদান, দায়িত্ব ও সমাজে তাদের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালে দিবসটি বাংলাদেশের ফার্মেসি পেশার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। ফার্মাসিস্টরা শুধু ওষুধ বিক্রেতা নয়; তারা রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা, উন্নয়ন এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (FIP) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বারবার ফার্মাসিস্টদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সরকারি ও ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি শিক্ষা প্রদান করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর আনুমানিক ১,৪৫০-১,৫০০ জন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট স্নাতক হন। তবে, কর্মসংস্থান সীমিত হওয়ায় প্রায় ৯৮০ জন ফার্মাসিস্ট স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োজিত হন, বাকিরা বেকার থাকেন বা অন্যান্য পেশায় চলে যান।

ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (PCB) ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখের বেশি ফার্মাসিস্টকে নিবন্ধিত করেছে। যদিও নিবন্ধন সংখ্যা অনেক, কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ ফার্মাসিস্ট হাসপাতাল বা ক্লিনিক্যাল ফার্মেসিতে কর্মরত নন। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফার্মাসিস্টদের একটি বড় অংশ কমিউনিটি ফার্মেসি, বেসরকারি হাসপাতাল, ওষুধ উৎপাদন শিল্প এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। তাদের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও গবেষণামূলক অবদান বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প গত দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ২০২৪ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারের আকার ৩.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল, যা ১৭.৭% প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। দেশের ৯৮% ওষুধের চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ হয় এবং ১৮২টি দেশে রপ্তানি করা হয়। ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসে ফার্মাসিউটিক্যাল রপ্তানি ৩.৪৬% বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৭.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।

ফার্মাসিস্টরা এই শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে, ওষুধ উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বিপণন, ডিসপেন্সিং ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ারস, বিজনেজ ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বৈশ্বিক মানে প্রতিযোগিতামূলক। এই শিল্পের উন্নয়নে বিশেষভাবে A-গ্রেড ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

ফার্মাসিস্টরা রোগীর নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করে থাকেন। ওষুধের সঠিক ব্যবহার নির্ধারণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ডোজ নির্ধারণ, রোগীকে ওষুধ সম্পর্কিত পরামর্শ ও শিক্ষা প্রদান। এ ছাড়া তারা হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি ফার্মেসি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে, বাংলাদেশে অধিকাংশ ফার্মাসিস্ট ফ্যাক্টরি বা উৎপাদন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির উন্নয়নে এদের অংশগ্রহণ খুব কম।

ফার্মাসিস্টদের পেশাগত অবদান এবং স্বাস্থ্যসেবায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির একটি অনন্য সুযোগ। বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টরা শুধুমাত্র ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তারা রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা, শিক্ষা এবং নিষ্ঠা দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করছে। দেশের ফার্মাসিস্টরা বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি ফার্মেসি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে, তাদের কর্মসংস্থান এবং পেশাগত স্বীকৃতির সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ণ মাত্রায় অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যদি ফার্মাসিস্টদের মর্যাদা, কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়, তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত আরও উন্নত ও কার্যকর হবে। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনীন করা এবং ফার্মাসিস্টদের পেশাগত গুরুত্বকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া। এটি একটি আহ্বান যে, ফার্মাসিস্টদের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া সুস্থ সমাজ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

  • সোনাগাজী, ফেনী
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা