প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:০৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের আগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এম.ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তার ভর্তি সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। আর তাতে বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে একই বছরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতাও বৈধ ছিল না। তার প্রেক্ষিতে জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, রাব্বানীর বৈধ ছাত্রত্ব না থাকায় ওই বছরের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদে প্রার্থিতা বৈধ ছিল না। ফলে তার নির্বাচিত হওয়াটিও অবৈধ—এমন সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির এই সুপারিশ এসেছে ডাকসুতে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাশেদ খানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন-২০১৯ অনুষ্ঠানের বিষয়ে কিছু প্রার্থী/প্যানেলের পক্ষ থেকৈ ভোটদান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, ভোট কারচুপি করা, ভোট দানের জন্য কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি করা, ভোট কেন্দ্র দখল করা, ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল মারা, ভোট দানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, ব্যালট-বাক্সসহ নানা কারচুপি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।
এতে আরও বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণাদি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে কমিটির কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ক্রিমিনোলজি বিভাগের গোলাম রাব্বানী, মেহজাবিন হক ও ফাহমিদা তাসনিম অনির এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। অতএব ওই ভর্তি আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় বৈধ ছাত্রত্ব না থাকার কারণে গত ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা বৈধ ছিল না। সুতরাং এই কমিটি গোলাম রাব্বানীর জিএস নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে অবৈধ ঘোষণার জন্য জোর সুপারিশ করা হলো।

এই প্রতিবেদনের আলোকে সর্বশেষ সিন্ডিকেট মিটিংয়ে সিদ্ধান্তে বলা হয়, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ক্রিমিনোলজি বিভাগের গোলাম রাব্বানী, মেহজাবিন হক ও ফাহমিদা তাসনিম অনির এমফিল প্রোগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের এমফিল ভর্তি সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো। তাদের এমফিল ভর্তি বাতিলের বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হোক। তদন্ত কমিটির এই সুপারিশ বাস্তবায়নে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য আইন উপদেষ্টাকে অনুরোধ করা হলো।
এ বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই, তারা গুরুত্বের সঙ্গে আমার অভিযোগ বিবেচনা করেছে। গোলাম রাব্বানী শিক্ষার্থীদের ভোটে জিএস নির্বাচিত হয়নি। তৎকালীন প্রশাসন ফলাফল ছিনতাই করে রাব্বানীকে জিএস ঘোষণা করে। দীর্ঘসময় পরে হলেও আমি ন্যায়বিচার পেতে যাচ্ছি। এতটুকুতেই আমার তৃপ্তি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রমাণ পেয়েছে গোলাম রাব্বানীর জিএস নির্বাচিত হওয়া অবৈধ ছিল।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আমি সেই সময়ে মুলত আমার জন্য আবেদন করিনি। মুলত ছাত্রলীগের যারা অবৈধভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো; তাদের সেইসব পদ যেন বাতিল করা হয় সেজন্য আমি সেই সময়ে আবেদনটা করি। ২০১৯ সালে আবেদন করলেও সেই সময়ে এর কোনও বিচার পায়নি। ন্যায় বিচার পাবো সেই আশাতে আমি এতবছর ধৈর্য ধরেছিলাম। অবশেষে ২০২৫ সালে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ও ন্যায় বিচার করছে। সেজন্য আমি ঢাবি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।