বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:৪২ পিএম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘৫৩ বছরে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলকে পরীক্ষা করেছেন। ওদের বারবার পরীক্ষা করেছেন, বারবার ফেল করেছে। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি। একটাবার আপনারা ইসলামকে পরীক্ষা করেন। অনুরোধ করছি দুই হাত জোড় করে, একবার মাত্র ইসলামকে পরীক্ষা করুন। ইনশা আল্লাহ আপনাদের জানমাল রক্ষা করতে সক্ষম হব।
আর আগামীতে সম্মিলিত ইসলামী জোটগুলোর পক্ষ থেকে যদি ঐক্যবদ্ধভাবে একটি ভোট বাক্স দিতে পারি, তাহলে শিয়ালরা এদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবে।’ আগামীতে ইসলামী শক্তিকে ক্ষমতায় আনার জন্য সবাইকে কাজ করার অনুরোধ করেন এই নেতা।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাগেরহাট শহরের রেলরোড চত্বরে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণসমাবেশে দলটির কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, হেফাজতে ইসলাম, এনসিপিসহ সমমনা ইসলামী দলগুলোর জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বাগেরহাটের চারটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীরা হলেনÑ বাগেরহাট-১ আসনে মোল্লা মুজিবর রহমান শামীম, বাগেরহাট-২ আসনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমান, বাগেরহাট-৩ আসনে অধ্যক্ষ শেখ জিলুর রহমান ও চার আসনে মাওলানা ওমর ফারুক নূরী।
নির্বাচনী সীমানা নিয়ে চলমান আন্দোলন ও বাগেরহাটবাসীর দাবির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, আপনি যেভাবে ভাগ করেছেন, এই অঞ্চলের জনগণ এভাবে ভাগ চায় না। আপনি ভাগ করেছেন জনগণের স্বার্থের জন্য, যেখানে জনগণের স্বার্থ বিপন্ন হবে সেই ভাগ কোনোভাবে ঠিক হবে না। কাজেই জনগণ যেভাবে চায়, সেভাবে ভাগ করতে হবে।’ এ সময় চারটি আসন ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) মুফতি মোস্তফা কামাল, জেলা জামায়েতের আমির মাও. রেজাউল করিম, নায়েবে আমির অ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম সিদ্দিকি, হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা আব্দুল মাবুত, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সহসভাপতি ফকির শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি হাফেজ মোশাররফ হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি নূরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. ইউসুফ ইকবাল, ওলামা মাশায়েখ পরিষদের জেলা সভাপতি মাও. শাহজালাল সিরাজী, শিক্ষক ফোরামের সভাপতি মাওলানা আবু মুসা গাজী প্রমুখ।