× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাকসু নির্বাচন

জাকসুর ভোট কাল

রাজিব রায়হান, জাবি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৩৮ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণার শেষদিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে এবারের জাকসু নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে টাকা ও মাদক ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। 

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর কাল বৃহস্পতিবার জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ২৫টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৮ জন প্রার্থী।

গতকাল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে প্রার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। আমরা আশা করছি, ডোপ টেস্টের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। 

নির্বাচনী আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসজুড়ে মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। অভিযোগ উঠেছে, অনেক প্রার্থী প্রচারণার পাশাপাশি ভোটারদের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছেন।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আড্ডাস্থল, টারজান পয়েন্ট, সিডনি ফিল্ড, আবাসিক হলগুলোতে মাদকের সহজলভ্যতা চোখে পড়ছে। এতে জুনিয়রদের টার্গেট করে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে কিছু প্রার্থী গোপনে গাঁজা, অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সরবরাহ করছেন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। 

স্বতন্ত্র প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মো. শাকিল আলী বলেন, বিভিন্ন হলে মদসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি তো বটেই; বিশ্ববিদ্যালয়ের ও দেশের আইনেরও পরিপন্থী। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা হলে হলে বিরিয়ানি সাপ্লাই দিচ্ছেন। ভোটারদের ক্যান্টিনে নিয়ে খাওয়াচ্ছেন। আমরা আশঙ্কা করছি, এগুলো নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। 

মাদকের পাশাপাশি নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন ‘সংশপ্তক পর্ষদ’ প্যানেলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সোহাগী সামিয়া।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম জাকসু নির্বাচনে সবাই আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাবেন। কিন্তু প্রার্থীদের অনেকেই আচরণবিধি ভঙ্গ করে মাদক এবং বিরিয়ানির প্যাকেট বিলি করছেন। নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। টাকা দিয়ে অনেকেই ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। ৫ আগস্টের পূর্বের নির্বাচনগুলোর মতোই অনিয়মের চিত্র আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি।

বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, অনলাইন প্রচারণার মোড়কে বিরিয়ানী উৎসব ও নানা মুখরোচক আপ্যায়নে অর্থ ব্যয় করছেন। বটতলার রাঁধুনি, তাজমহল হোটেল, হাবিব ভাইয়ের দোকানগুলো ভোটারদের সমাবেশ করে অতিরিক্ত খরচ করা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে গেছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুচ্ছেদ ১৭(খ) অংশে বলা আছে, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু জাকসু নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরকম অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় থামানোর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, এভাবে অঢেল অর্থ ব্যয় অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী কাজ।

এদিকে শেষ সময়ে নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। তিনি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

অনন্যা গত ২৮ আগস্ট ছাত্রদলের প্যানেলে অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনে জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বলা হলেও তিনি তা করেননি। গতকাল দুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন অনন্যা। 

এ বিষয়ে অনন্যা ফারিয়ার বলেন, আমি একটি সম্মিলিত ঐক্যের আহ্বান করব। তাই প্রার্থিতা না করার কথা ভাবছি। 

এদিকে জাকসু নির্বাচনের ভিপি পদপ্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের রায় বহাল রেখে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। গতকাল চেম্বার জজ আদালত কর্তৃক হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা