মেহেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৩ পিএম
প্রবা ফটো।
‘আমরা রাতের আঁধারে ক্ষমতা দখল করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, রাতের আঁধারে ভোট চুরিতেও বিশ্বাস করি না, আমরা সন্ত্রাসবাদী দল নই। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয়তাবাদী দল মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে চাই’Ñএ কথাগুলো বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তিনি আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাকশালের কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করে গণতন্ত্রের প্রবর্তন ঘটিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি থেকে পার্লামেন্ট পদ্ধতি, সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা যদি কেউ করে থাকে, সংস্কার করে থাকে, তাহলে তার দাবি একমাত্র জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-ই করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) মেহেরপুর জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশ ছিল গণতন্ত্র ও মানবতাহীন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল।
এ ষোল বছরে বেগম খালেদা জিয়া তো একদিনের জন্যও পালিয়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন, আমার মৃত্যু হলেও এই দেশেই থাকব। তাকে ওয়ান ইলেভেনে চলে যেতে বলেছিলেন, তিনি যাননি। তারেক রহমানকে বলেছিলেন বিদেশে চলে যান তিনি যাননি। তিনি বলেছিলেন, মৃত হলে এ দেশের মাটিতে হবে।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, পালানোর একদিন আগেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন, শেখের বেটি পালায় না, আওয়ামী লীগ পালায় না। একদিন পরেই সে পালিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা তার গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের মাটি থেকে পালিয়ে গেছে। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যার ভয় ছিল বলেই পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে প্রেক্ষাপট অন্যরকম হতো। তার ডাকেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে পুলিশ আনসারসহ মুক্তিযোদ্ধারা।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোষরদের বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে; ফাঁসিতে হবে। কেউ বাঁচাতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিতে তার রাজনীতি চলবে না। বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও বাংলাদেশ গড়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি প্রেসিডেন্ট। সামনের নির্বাচনে যাকেই প্রার্থী দেওয়া হবে তাকেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচিত করতে হবে।
শনিবার বেলা ১১টায় মেহেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। উদ্বোধক ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, সম্মেলনে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী সরকারি কলেজ মাঠে সমবেত হন।
সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, ওমর ফারুক লিটন ও রুমানা আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ মেহেরপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে।