প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:১৬ পিএম
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:২৬ পিএম
বিএনপি কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ। ছবি : প্রবা
পুলিশি অভিযানের পর বিএনপি কার্যালয় দেখে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বলেছেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও এমন বর্বরতা কোনো রাজনৈতিক অফিসে চালায়নি।’
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানান দলটির সাবেক এই নেতা।
৭ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় সমাবেশ কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেদিন পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১৫টি ককটেল উদ্ধার করে।
অলি আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ তালা ভেঙে বিএনপি অফিসের ভেতরে ঢুকে লুট করেছে। আসলে সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।’
সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
কর্নেল অলি বলেন, ‘বিএনপির বড় প্রাপ্তি এ সরকারকে বিশ্বের কাছে উলঙ্গ করতে পেরেছে। কারণ দুনিয়ার মানুষ জেনেছে সরকারের মনুষ্যত্ব নেই। পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মিলে এ কাজ করেছে। তাদের মনে রাখতে হবে, অত্যাচার চালিয়ে কোনো স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে এ সরকারকে বিদায় করার জন্য যা দরকার করতে হবে। আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দেব না। আইন মোতাবেক সব করা হবে। বিএনপিকে আরও শক্তিশালী হয়ে কর্মসূচি দিতে হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। যাদের লোকবল আছে তাদেরই সঙ্গে নিন। শূন্য যোগ শূন্য সমান শূন্যই হয়। যারা ওয়ানম্যান শো, তাদের পরিহার করে যাদের যাদের শক্তি ও অবস্থান আছে তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে।’
অলি আহমেদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বিএনপির মাধ্যমে। ১৯৯১ সালে বিএনপির মন্ত্রী ছিলেন অলি আহমেদ। ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। তবে ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিত্ব নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এরপর ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে সরে গিয়ে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। বিএনপি ছেড়ে নিজে দল প্রতিষ্ঠার পর ২০০৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দেন। পরে দুই বছরের সেনাশাসনের সময় জোটে বনিবনা না হলে আবার বের হয়ে যান।
এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ বলেন, ‘এ সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার। তারা অর্থনীতি পঙ্গু করে ফেলেছে। ফলে বিশ্বের কাছে অনুরোধ—আজকে কেউ এককভাবে চলতে পারে না। আসুন সবাই মিলে কাজ করি। এই দুর্নীতিবাজদের আপনারা স্থান দেবেন না। কারণ তারা অমানুষ। তাদের যারা স্থান দেবেন, তারাও অমানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। কারণ এরা ১৮ কোটি মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। তাদের ভিসা দেবেন না।’
বিএনপির ১০ দফা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে আলাপ করে ১০ দফা ঘোষণা করেছি। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাব, আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। সরকারের পালানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ৭ ডিসেম্বরের পর তারা সে সুযোগ বন্ধ করে ফেলেছে। এখন জনগণ তাদের বিচার করবে।’
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজ মানুষের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষ অসহনীয় পরিস্থিতিতে বাস করছে। আজ সরকারের পতন অনিবার্য।’
সবশেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু, যুবদল সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না, এলডিপির নেয়ামুল বশির, আওরঙ্গজেব বেলাল, মোর্শেদ, সাকলায়েন, কফিল উদ্দিন, আবুল হোসেন ভুঁইয়া, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বিএনপি কার্যালয় পরিদর্শন করে ২০-দলীয় জোটের ১১টি দল
এলডিপি সভাপতি ছাড়াও ২০-দলীয় জোটের ১১টি দলের নেতারা এদিন বিএনপি কার্যালয় ঘুরে দেখেন। তারা হলেন—জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরবিক্রমসহ ১১টি দলের শীর্ষ নেতারা।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয়টি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিএনপি নেতাদের সহমর্মিতা জানান।
অন্য দলগুলো হলো—বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় দল, বাংলাদেশ এলডিপি, মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।