ডাকসু নির্বাচন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১২:৫৩ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১৩:০২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)
আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্যানেল ঘোষণা করেছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সব ছাত্র সংগঠন। এর বাইরেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্যানেল ঘোষণা করেছেন। আগামী ২৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে প্রচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডাকসুর জন্য ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে উমামা ফাতেমা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল বিজয়ী হলে গণরুম-গেস্টরুম মূলোৎপাটনের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
আবিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ছাত্রদল তাদের প্রার্থী নির্বাচিত করেছে, আশা করি শিক্ষার্থীরা সেটাকে হৃদয় থেকে স্বাগত জানাবে এবং সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে আমাদের পাশে থেকে উৎসাহ দেবে।
ডাকসু নির্বাচনে এই ভিপি পদপ্রার্থী বলেন, ছাত্রদলের প্যানেল বিজয়ী হলে গণরুম-গেস্টরুম কালচার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি থেকে চিরতরে মূলোৎপাটন করা হবে। ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া থেকে রাজনৈতিক যেসব অপসংস্কৃতি ছিল, সেগুলোর মূলোৎপাটন করা হবে। সম্মেলনে ঢাবিকে পরিপূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলের বেশি ফোকাস থাকবে বলেও জানান আবিদ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানভীর বারী হামিম ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদসহ অন্যরা।
এখন পর্যন্ত ডাকসুর সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণায় মেতে উঠেছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপও হয়ে উঠেছে সক্রিয়। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও ভোটারদের নিকট ধরনা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ডাকসুর আমেজে মাতোয়ারা ক্যাম্পাস।
এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল আলম শিহাব বলেন, অনেক দিন পরে ডাকসু অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। আশা করি ডাকসুর মাধ্যমে আমরা যোগ্য নেতৃত্ব পাব।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোয়াইব বলেন, যখন ক্যাম্পাসে প্রথম আসি তখন ছাত্রলীগের গণরুম-গেস্টরুমের ভয়াবহতা দেখে ডাকসুর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর পরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। এবারকার ডাকসু ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র চর্চার সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আহমেদ মনে করেন ডাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পথ সুগম হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন ডাকসু নেতারা। ডাকসুর মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার ধারা বজায় থাকবে বলে মনে করি।
বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সংবাদ সম্মেলন করে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেন উমামা ফাতেমা। এই প্যানেলে ভিপিসহ ছয়জন প্রার্থী নারী। এই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভুঁইয়া এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জাহেদ আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
প্যানেলের সম্পাদক পদগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদে নুমান আহমাদ চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম (বিধান), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নাফিজ বাশার আলিফ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে সুমী চাকমা, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে অনিদ হাসান এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সিয়াম ফেরদৌস ইমনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অন্য পদগুলোর মধ্যে ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সাদিকুজ্জামান সরকার, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে মো. রাফিজ খান, সমাজসেবা সম্পাদক পদে তানভীর সামাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ইসরাত জাহান নিঝুম এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে নুসরাত জাহান নিসুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্যানেলে সদস্য পদে নওরীন সুলতানা তমা, আবিদ আব্দুল্লাহ, ববি বিশ্বাস, মো. শাকিল, মো. হাসান জুবায়ের (তুফান), আব্দুল্লাহ আল মুবিন (রিফাত), অর্ক বড়ুয়া, আবির হাসান, নেওয়াজ শরীফ আরমান, মো. মুকতারুল ইসলাম (রিদয়), হাসিবুর রহমান, রাফিউল হক রাফি, মো. সজিব হোসেন ও সাদেকুর রহমান সানিকে প্রার্থিতা দেওয়া হয়েছে।