× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ২২:১৫ পিএম

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ২২:১৭ পিএম

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রধান উপদেষ্টার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান মঞ্চে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ভালোভাবে পড়ে বিশ্লেষণ করে মন্তব্য করবে বিএনপি। তবে বিএনপি যা যা চায়নি, তারও কিছুটা প্রতিফলন হয়েছে এ ঘোষণাপত্রে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, মহাসচিবসহ নেতারা জুলাই ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠান শেষে গুলশানে ফিরে এসেছেন। এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে না। প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর যদি কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা আপনাদের জানানো হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র হয়েছে এটাকে স্বাগত জানাই। ভালোভাবে পড়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। এটা যে হয়েছে সেটাকে অভিনন্দন।

হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ হাবিব বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে এক রাতে লক্ষাধিক গুলি চালানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হাজার হাজার আলেম-ওলামা জীবন দিয়েছে। এটি ঘোষণাপত্রে থাকা দরকার ছিল।

এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্রে হতাশা প্রকাশ করে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেন, ঘোষণাপত্র সংবিধানে স্থান দেওয়া দরকার ছিল। ৫ আগস্ট থেকে এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা শুনেছিলাম, কিন্তু এটা কখন থেকে বাস্তবায়ন হবে তার কোনো নির্দেশিকা নেই। এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা আমরা দেখেছি। আন্দোলনে শহীদ পরিবার কিংবা যারা পঙ্গু আছে তাদের বিষয়েও কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই ঘোষণাপত্রে। মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেভাবে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য কোনো সম্মাননা রাখা হয়নি, জুলাই যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো আজীবন ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল জামায়াত, এসব বিষয়ে ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। এটা এক ধরনের রচনার মতো হয়ে গেছে। এসব কারণে আমরা হতাশ।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে যেসব বিষয় রাখার প্রস্তাব করেছিলাম, তার বেশিরভাগই ঘোষণাপত্রে আসেনি। তবে দেশের বৃহৎ স্বার্থে এই ঘোষণাপত্রকে সাধুবাদ জানাই। সংস্কারের বিষয়ে আমাদের একটি জোরালো অবস্থান ছিল। সেটি হলো জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরই তা বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে আগামী সংসদ সেটি বাস্তবায়ন করবে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংস্কারের জনআকাঙ্ক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তা ছাড়া জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিয়েও ঘোষণাপত্রে কার্যত কিছু বলা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঘোষণাপত্রে সাধারণত এত বিস্তৃত ইতিহাস থাকে না, সংক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু ঘোষণাপত্রে মূল থেকে অন্যান্য বিষয় বেশি চলে এসেছে। এই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ছিল গত দেড় দশকের অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন। এর মধ্যে ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দেশের তরুণদের জাগ্রত করেছে। যার ফলে চব্বিশের আন্দোলন থেকে একটি অভ্যুত্থান হয়েছে।

এদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ঘোষণাপত্র চেয়েছিলাম- তা পুরোপুরি এতে উঠে আসেনি। আকাঙ্ক্ষার পুরোপুরি প্রতিফলন না হলেও ঘোষণাপত্রটি বাস্তবায়িত হলে সবার আশা পূরণ হবে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে চব্বিশের আবেগ নেই। দুয়েকটি দলকে খুশি করতে এই ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেরই অর্জন। সে কারণে এর আকাঙ্ক্ষাকে আমরা পূর্ণভাবে ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধসহ এ দেশের মানুষের শত শত বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই আকাঙ্ক্ষাকে যদি বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে অতীতের মতোই পুরনো বন্দোবস্ত আবার ফিরে আসবে, যা জনগণকে আবারও অধিকারহীন করে ফেলবে।

জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন এক হয়ে জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের বিচার, শহীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ার জাগ্রত পাহারাদার হন। ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের পথেই এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হতে পারে। সংগঠিত মানুষই ইতিহাসের নির্মাতা। তারা জেগে থাকলে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসতে পারবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা