× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইসলামী দলগুলোর শক্তি বাড়ছে

বিশেষ প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ১৭:২০ পিএম

ইসলামী দলগুলোর শক্তি বাড়ছে

চব্বিশের পটবদলের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থি ইসলামী দলগুলোর শক্তি বৃদ্ধির আভাস স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের চরম নির্যাতনে ক্লিষ্ট হয়ে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা দলগুলো দ্রুত সংগঠন পুনর্গঠন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। 

বিশেষ করে নিবন্ধন ফিরে পাওয়া জামায়াতে ইসলামী এবং হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন) ইতোমধ্যেই আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী দলগুলোর সম্মিলিত ভোটব্যাংক বর্তমানে ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মতো। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তবে এই ভোটব্যাংকের সহায়তায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সংসদে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তাদের সঙ্গে ছাত্র-তরুণদের নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি নির্বাচনী জোট গড়লে তাদের ভোট সংখ্যা ২০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

জামায়াত : নতুন নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী

জামায়াতে ইসলামী নতুন নেতৃত্বের অধীনে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এবার তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রার্থী নির্বাচন ও সাংগঠনিক কাজ শুরু হয়েছে। অন্তত ১৫০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’

দীর্ঘদিন বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাদানুবাদ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই অবস্থার কারণে জামায়াত স্বাধীন অবস্থান তৈরির কৌশল নিচ্ছে।

হাতপাখার প্রসার বাড়ছে

চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা প্রতীক) স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধারাবাহিক ভোট বৃদ্ধির মাধ্যমে কিছুটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দলটির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা অন্তত ২০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। হাতপাখার রাজনীতি জনগণ বুঝতে শুরু করেছে। তারা বুঝেছে, আমরাই মূলধারার প্রধান ইসলামী দল। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতি জনগণের যে সমর্থন দেখেছি, তাতে আমাদের মনোবল আরও বেড়েছে। ইসলামই হবে আগামীতে দেশে রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।’ বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা ও উত্তরবঙ্গের বেশকিছু আসনে দলটির সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

ছোট দলগুলোও সক্রিয়

হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি ইসলামী দলও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী আমলের নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত ও বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় এই দলগুলো সাংগঠনিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল হলেও আঞ্চলিক ভোটে তাদের প্রভাব উপেক্ষা করা যাবে না।

সমীকরণ বদলে যেতে পারে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন আলাদা হয়ে গেলে ভোট কিছুটা ছড়িয়ে পড়বে, কিন্তু যদি তারা কৌশলগতভাবে একত্রিত হয় এবং বিএনপির বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট লড়াই করে, তাহলে সহজেই প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে পারে।’

এদিকে বিএনপি ফ্যাসিবাদ-বিরোধী সংগ্রামের মিত্রদের সমন্বয়ে নির্বাচনোত্তর জাতীয় সরকার গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এই সরকারে জামায়াতকে না রাখার ব্যাপারে দলে জোরালো মত গড়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি অন্য ইসলামী দলগুলো যাতে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়তে না পারে সে চেষ্টা জোরদার করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্যকে এই দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা হলেন, নজরুল ইসলাম খান ও সালাহ্উদ্দিন আহমেদ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর ফলাফল যেভাবেই আসুক না কেন, তারা জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি, বিএনপি-জামায়াতের টানাপড়েন, তরুণদের একটি অংশের মধ্যে জামায়াত ও তাদের অংগসংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের শক্ত অবস্থান এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্বল্পশিক্ষিত ধর্মপ্রাণ পীরবাদী লোকদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের ধারাবাহিক অগ্রগতি নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এক দশক ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই দুই দলের দ্বন্দ্বময় রাজনীতিতে জনগণের বিরক্তি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামী দলগুলোর জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভোট ও আসনের সম্ভাবনা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা