প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৫ ২৩:০১ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫ ২৩:০২ পিএম
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের মিশন চালুর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চেয়ে ফিলিস্তিনের গাজার মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেক বেশি খারাপ। কিন্তু সেখানে জাতিসংঘের তেমন কার্যক্রম দেখা যায় না।
সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মৌলিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ফ্যাসিজমের সময় দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ও অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো মনে করেছে বাংলাদেশে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের একটা অফিস স্থাপন দরকার। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া, কোনো চুক্তি ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেটা ন্যায়সঙ্গত হয়নি।
ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে একটি ‘সাংঘাতিক’ খবর আছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, তারা শুনতে পেয়েছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বর্তমান আবাসিক প্রতিনিধির মেয়াদ শেষের দিকে। তার স্থলে যিনি আসবেন, তার ব্যাপারে তারা কিছু আপত্তিকর কথা শুনেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তিনি এর বেশি খোলাসা করে বলতে চান না। অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধিকে অনুমোদন দেওয়ার আগে যাতে তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, তাদের কথা হলো, দেশ ও ইসলামের স্বার্থে তারা কারও মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবেন না।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অবস্থা এমন যে পুলিশ ঘুষ খায়, আবার ঘরে চুরি হলে পুলিশকেই ফোন করতে হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের মিশন স্থাপনের বিষয়টিও একই রকম।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির সালাউদ্দিন নানুপুরী, আহমদ আলী, মহিউদ্দিন রাব্বানী, যুগ্ম মহাসচিব হারুন এজহার, মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস, ফজলুল করিম, সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মহাসচিব আতাউল্লা আমিন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখের মহাসচিব রেজাউল করিম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক প্রমুখ।