সমাধানে আশাবাদী কমিশন
দীপক দেব
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ০৯:১৭ এএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল রূপ নিয়েছে। বিএনপি ও সমমনা কয়েকটি দল ও জোট এই পদ্ধতির ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে আসছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি উচ্চকক্ষে নিম্নকক্ষের আসনভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব চাইলেও এনসিপি ও এবি পার্টি ভোটের সংখ্যানুপাতিক আসনের দাবিদার। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংসদের উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষ দুই জায়গায় পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও চরমোনাইয়ের দল বলে পরিচিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজধানীতে সমাবেশ করে এই দাবির পক্ষে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকেও পিআর নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরছে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ১৮ দিনের সংলাপের মধ্যে কমপক্ষে চার দিন পিআর ইস্যুতে আলোচনা করা হলেও দলগুলোকে একমতে আনতে পারেনি। কমিশনের পক্ষ থেকে সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরা হলেও তাতে দলগুলোর সমর্থন পাওয়া যায়নি। দলগুলোর অনড় ও বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে পিআর ইস্যুতে জট খুলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর ইস্যু নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে
তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করার
মতো বাস্তবতা আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, এমনকি ভোটারদের মধ্যে রয়েছে কি না সেটা
বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এই পদ্ধতিতে যাওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের মধ্যে
বেশি বেশি করে আলোচনা এমনকি সংলাপ হওয়ার দরকার আছে। সবদিক বিচার বিশ্লেষণ করে তার পরেই
পিআর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার
দুর্বল দিকগুলোকে কিভাবে আরও ত্রুটিমুক্ত করা যায় সেটা নিয়েও কাজ করা উচিত। এজন্য অন্তর্বর্তী
সরকার ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের যে উদ্যাগ নিয়েছে তা সফল করার লক্ষ্যে পিআর
ইস্যুতেও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রেখে একটা জায়গায় আসা উচিত বলেও মনে করেনে তারা।
পিআর নিয়ে কোন দলের কী অবস্থান : সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর ইস্যুতে বিএনপি ও সমমনা ৬টি দল ও জোট বিরোধিতা করছে। বিএনপি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট চাইলেও উচ্চকক্ষ নিয়ে তাদের অবস্থানÑ নিম্নকক্ষের আসনের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন। দলটি ৩১ দফায় উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতির আলোকে এই পদ্ধতিতে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করতে চায়। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তিÑ এমন উচ্চকক্ষ চাই, যেখানে ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলেরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কার্যকর উচ্চকক্ষ থাকতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা না হতে তার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংসদের উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষ দুই জায়গায় পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে। যদিও অনেকেই মনে করছেন উচ্চকক্ষ নিয়ে বিএনপিকে তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করার জন্যই দুই কক্ষে পিআর এর দাবি জানানো হয়েছে। মূলত তারাও উচ্চকক্ষে পিআর এর পক্ষেই রয়েছেন।
সংলাপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দল পিআর পদ্ধতির উচ্চকক্ষ চায় বলে দাবি করেন জাতীয়
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তবে পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকা দলগুলো
মনে করে এই পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন না করা হলে তাতে কোনো লাভ হবে না। তাদের যুক্তি,
নিম্নকক্ষের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হলে ক্ষমতার ভারসাম্য ও
জবাবদিহিতা আসবে না।
তবে দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের
পরেও পিআর নিয়ে সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার
কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা
করছি সমঝোতায় পৌঁছানোর। জানি না কী হয়। গত সপ্তাহেও আলোচনা হয়েছে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে
পৌঁছানো যায়নি। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি দলগুলোকে একটা জায়গায় নিয়ে আনতে
পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনও চেষ্টা করছি, হাল ছাড়িনি। দেখা যাক কী হয়। তবে সমঝোতায়
পৌঁছাতে না পারলে বিকল্প কী হবে সেটা নিয়ে এখনই বলতে পারব না।’
শুধু টেবিলের সংলাপে নয়, মাঠের
রাজনীতিও পিআর নিয়ে জোরালো অবস্থান নিতে দেখা গেছে রাজনৈতিক দলগুলোকে। গত ২৮ জুন রাজধানীর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে সমাবেশ থেকে পিআরের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলন
বাংলাদেশ। এ ছাড়া গত ১৯ জুলাই একই জায়গায় পিআরসহ ৭ দফা দাবিতে জাতীয় সমাবেশ থেকেও নিজেদের
দৃঢ় অবস্থানের কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী। পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিপক্ষে অবস্থান থাকায়
ওই সমাবেশে বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানায়নি দলটি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের
সংলাপের কথা তুলে ধরে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সেখানে
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এজন্য অবিলম্বে সরকারকে সংবিধানে পিআর পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান
এ জামায়াত নেই। তিনি বলেন, ‘এ
পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এ
দাবি আদায় করে ছাড়ব।’
এদিকে পিআরের দাবি প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্বাচন বিলম্বিত করার
‘ষড়যন্ত্র ও কৌশল’ হিসেবেই এসব ইস্যু তোলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ‘নির্বাচনে
বিএনপির সম্ভাব্য বড় জয়’ ঠেকানোর জন্যই এই প্রস্তাব সামনে আনা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমানে
দেশের কিছু রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির দাবি তুলছে। কিন্তু এই পদ্ধতি বাংলাদেশের
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় উপযোগী নয়। বরং এটি রাষ্ট্রে চরমপন্থা ও
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।’
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন,
‘পিআর তো একটা জটিল প্রক্রিয়া। এটা তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর আমাদের দেশের জনগণ
এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত নয়। এটা শুরু করার আগে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্টদের
আরও বেশি সভা সেমিনার করা দরকার। এটার সুবিধা কী, অসুবিধা কী, এগুলো নিয়ে ডিবেট হওয়া
উচিত। কিছুই হয়নি। বিতর্ক না করলে আমরা বুঝব কী করে এটা আমাদের জন্য ভালো হবে কি না
হবে।’
আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা বা পিআর পদ্ধতি কী?
বর্তমান বাংলাদেশের
সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে
অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রথম ভোট সর্বোচ্চ (ফার্স্ট
পাস্ট দ্য পোস্ট) পদ্ধতি। অর্থাৎ একটি আসনে যে দলের প্রার্থী অন্যদের
চেয়ে বেশি ভোট পান সেই দলের প্রার্থী জয়ী হন। অন্যদিকে
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর হচ্ছে নির্বাচনি ব্যবস্থার এমন একটি পদ্ধতি যেখানে
আসন বণ্টন হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সারা দেশে
প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি
কোনো দল মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৫ শতাংশ পায়, তাহলে
সেই দল আনুপাতিক হারে সংসদের ৫ শতাংশ বা ১৫টি আসন পাবেন। পিআর বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব
নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুক্ত,
গোপন ও মিশ্র তিনটি আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা রয়েছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশ এবং ইউরোপসহ উন্নত
বিশ্বের অনেক দেশে আনুপাতিক পদ্ধতিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন
আহমদ পিআর নিয়ে এক বিশ্লেষণ করেছেন এভাবেÑ আনুপাতিক পদ্ধতির
যৌক্তিকতা কোথায়,
তা নিয়ে আলোচনা করা যাক। ধরুন, বর্তমান একটা আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পেলেন। তিনি নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবেন।
তিনি হয়তো ভোট পেয়েছেন ৩৫ শতাংশ। বাকি ৬৫ শতাংশ ভোট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন অন্যান্য
১০ প্রার্থী। তাদের কেউ হয়তো পেয়েছেন ৩২ শতাংশ, কেউ ২৫ শতাংশ, কেউ
কেউ ১ শতাংশের কম। সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তিটি যদি ৫১ শতাংশ ভোট পেতেন, তাহলে
তার প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু তিনি ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে
জনপ্রতিনিধিত্বের যে দাবি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠ
৬৫ শতাংশ ভোটারের ইচ্ছার প্রতিফলন কোথায়? ১৯৯১, ১৯৯৬
ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে দুটি বড় দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল নগণ্য। কিন্তু
সংসদে প্রতিনিধির সংখ্যায় ছিল বিরাট পার্থক্য। তা
সত্ত্বেও এ নিয়ে দাবি কিংবা বিরোধিতা হচ্ছে কেন? এই ইস্যুকে ঘিরে যে
বিতর্ক হচ্ছে,
তার মূল উদ্দেশ্য দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্ন।
দলগুলো নিজ নিজ স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান নিয়েছে। আসনভিত্তিক সর্বোচ্চ ভোট পাবেন
বলে যারা মনে করেন,
তারা এর বিরোধিতা করছেন। আনুপাতিক ভোট হলে যারা
প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবেন, তারা এই পদ্ধতির পক্ষে। পক্ষ-বিপক্ষ সবাই
যার যার অবস্থান থেকে যুক্তি তুলে ধরছেন।
উচ্চকক্ষ নিয়ে কমিশনের যেসব প্রস্তাব : জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের যে আলোচনা শুরু করেছে তাতে পিআর নিয়েই কমপক্ষে চার দিন আলোচনা করলেও কোনো সমাধানে আসতে পারেনি। এর মধ্য উচ্চকক্ষ নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২৯ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংসদের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ এবং পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের প্রস্তাবে সংবিধান সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব একীভূত করে রাজনৈতিক দলগুলোর সমানে উপস্থাপন করে। সেখানে জাতীয় সংসদ নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষÑ এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নকক্ষে বিদ্যমান নিয়মানুযায়ী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ-সদস্য নির্বাচনের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষে ১০০ জন প্রার্থী মনোনীত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব হারে। ওই দিন বৈঠকে বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল উচ্চকক্ষের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ক্ষমতা নিয়ে মতভিন্নতা দেখা দেয়। এরপর কমিশনের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসেবে উচ্চকক্ষে ১০০ আসনের অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ আসন পিআর পদ্ধতিতে এবং বাকি অর্ধেক নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে করার প্রস্তাব দিলেও তাতেও সাড়া দেয়নি দলগুলো। সব শেষে কমিশন ৬৪ জেলা ও ১২ সিটি করপোরেশন থেকে নিয়ে সরাসরি ভোটে উচ্চকক্ষ গঠনের পরামর্শ দেয়। এই বিকল্প প্রস্তাবকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই পদ্ধতি জেলা পরিষদ বা প্রাদেশিক ব্যবস্থার মতো, যা উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনের এ পদ্ধতি সংবিধান সংস্কারের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আটকে যেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো তো এখনও সেরকম মানসিকতায় পৌঁছায়নি। ধরেন যে দল সরকার গঠন করবে সে চাইবে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় নির্বিঘ্নে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে। ধরেন নিম্নকক্ষ একটা আইন করে সেটা যদি উচ্চকক্ষ বাধা দেয় সেটা তো সরকারের জন্য একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি করবে। যুক্তরাষ্ট্রে যেমনটা দেখা যায়। এই ধরনের জটিলতা এড়ানোর জন্যই হয়তো বড় দলগুলো এটার বেশি বিরোধিতা করছে। আর পিআর হলে ছোট দলগুলোর লাভ বেশি এজন্য যে কক্ষেই পিআর হোক তাতে তাদের লাভ বেশি। আমার মনে হয় এই নির্বাচনে পিআরএ যাওয়া সঠিক হবে না। কারণ তাতে রাজনৈতিক জটিলতা বাড়বে। সুতরাং এটা নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করা ও সময় নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। নানা দিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই এই পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একেবারে এইবারের পিআর পদ্ধতিতে এ চলে যেতে হবে বিষয়টা তো এমন না। কারণ বলা হচ্ছে দুই কক্ষ একটা আরেকটাকে ব্যালান্স করবে, সেটা তো নাও হতে পারে। যদি নিম্নকক্ষে এক দল এবং উচ্চকক্ষে আরেক দলের সংখ্যা বেশি হয় তাহলে কী হবে? সেক্ষেত্রে তো সংকট তৈরি হবে।