× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে যাচ্ছে জামায়াত

কাউসার আহমেদ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ০৯:১৫ এএম

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম

নির্বাচন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে যাচ্ছে জামায়াত

গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করছে দলটি। টানা সাড়ে ১৫ বছর কোণঠাসা ছিলেন এ দলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক বছর পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে দলটি। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শুক্রবারেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবারের সমাবেশ ঘিরে আগের দিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় উপস্থিত হয়েছে।

সমাবেশ সফল করতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করেছে দলটি। সারাদেশ থেকে কর্মী সমর্থকদের আনা হয়েছে। সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়ে কাজ করছে জামায়াত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে দলটির শীর্ষ নেতারা। জানা গেছে, সমাবেশ থেকে বেশকিছু দাবি তুলে ধরবে জামায়াত। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেÑ নির্বাচনের আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, জুলাই আহতদের চিকিৎসা, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের অনেককেই অতিথি হিসেবে দেখা যাবে এই সমাবেশে। এই সমাবেশে সব ইসলামী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে। রাজধানীতে হয়েছে একাধিক প্রচার মিছিল। সমাবেশস্থলে বসানো হয়েছে বড় এলইডি স্ক্রিন, যাতে পেছনের সারিতেও দর্শনার্থীরা বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখতে ও শুনতে পান।

গতকাল শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা দল বেঁধে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন। মঞ্চ নির্মাণ, মাঠ সমতলকরণ, আলোকসজ্জা, এলইডি স্ক্রিন বসানো, সাউন্ড সিস্টেম এবং শৌচাগার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। পুরো মাঠে বিরাজ করছে কর্মব্যস্ততা ও প্রস্তুতির চূড়ান্ত চাপ।

দলের নেতারা জানান, সমাবেশ শুরু হবে কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে দুপুর ২টায়। এতে বক্তব্য রাখবেন দলের কেন্দ্রীয় আমির, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, রাজনৈতিক কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় নেতারা। সমাবেশ থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলীয় কৌশল, প্রস্তুতি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশের মূল মঞ্চ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমরা কাজ করছি। আজ রাতের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে। মাঠজুড়ে প্রায় ৬০০ লোক নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত ধাপে এখন শুধু লাইটিং, ব্যানার স্থাপন আর কিছুটা রঙ করার কাজ বাকি আছে। সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা মাইক কোম্পানির ম্যানেজার মনির হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ৩৫০টি মাইক বসানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে সন্ধ্যার পরে আরও মাইক বসানো হবে। মাঠের প্রতিটি কোনায় মাইক বসিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে, যেন পুরো জনসমাগমে সাউন্ড স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায়।

সমাবেশ ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগেই এসেছেন, আশঙ্কা করছেন সমাবেশে জায়গা না-ও পেতে পারেন।

ভোলার মনপুরা থেকে আসা মাওলানা শামসুদ্দিন জানান, আমি আমাদের উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার জন্য এসেছি। কালকে ঢুকতে পারব কি না সন্দেহ, তাই আগেভাগেই চলে এসেছি। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আলাউদ্দিন বলেন, আমরা সাতজন একসঙ্গে এসেছি। রাতে আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০টি গাড়ি আসবে। আমি চেয়েছিলাম তাদের সঙ্গেই আসতে, কিন্তু যদি জায়গা না পাই, সেই ভয়েই আগেভাগেই চলে এলাম।

বরিশাল থেকে আসা আবদুল হাকিম বলেন, সমাবেশে জায়গা পাব কি না তা নিশ্চিত না, তাই আগেই চলে এসেছি। মঞ্চটা কেমন হবে সেটাও দেখতে পেলাম। আমার সঙ্গে অনেক সাথি ভাই আসছে। আজ রাতে আরও লঞ্চ আসবে।

পতাকা বিক্রেতা জাকির হোসেন জানান, ৬০টি জামায়াতের পতাকা নিয়ে এসেছি। সব বিক্রি হলে আবার আনব, না হলে পরে বেচা যাবে। আশা করি, যা আনছি তা আজ আর আগামীকালের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড চোখে পড়েছে।

সমাবেশ সফল করতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে জামায়াত। রাজধানীর বিভিন্ন ফুটওভার ব্রিজগুলাতে টানানো হয়েছে ব্যানার, দেয়ালগুলোতে লাগানো হয়েছে পোস্টার। মহল্লায় মহল্লায় করা হয়েছে মাইকিং। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শপিংমলসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ মাইকের মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারা দেশে বিতরণ করা হয়েছে লিফলেট। জাতীয় সমাবেশ সফল করে তোলার লক্ষ্যে ৮টি উপ কমিটি গঠন করেছে। ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী গান ও নাটকের মাধ্যমে সমাবেশের বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও সেবা

সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াতের ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশনস) নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, গাড়ি পার্কিং, মাইক বসানোসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন করতে আমরা ডিএমপির সহযোগিতা চেয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত সরাসরি কোনো হুমকি পাওয়া যায়নি। তবুও সতর্ক আছি। পুলিশও আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

ডিএমপির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াত নেতাদের মধ্যে আরও ছিলেন ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডা. রেজাউল করিম, মো. দেলাওয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও আবদুস সাত্তার সুমন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) মো. শহীদুল্লাহ, ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার গৌতম কুমার বিশ্বাস ও রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

৪ জোড়া ট্রেন ভাড়া

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের সমাবেশে নেতাকর্মীদের আনা-নেওয়ার জন্য চার জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব ট্রেনের মধ্যে একটি ছাড়বে রাজশাহী থেকে; একটি সিরাজগঞ্জ থেকে; একটি চট্টগ্রাম থেকে; আরেকটি ময়মনসিংহ থেকে। জামায়াতের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনগুলো বরাদ্দ দেন।

এদিকে সমাবেশ উপলক্ষে জামায়াতের ট্রেন ভাড়া করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে। রেলওয়ের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। এসব সমালোচনা শুরুর পর এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, বিষয়টি কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেন পরিচালনার অনুমতির ইতিহাস বা নজির না জেনে পক্ষপাতমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।

রেলওয়ে বলছে, এখানে ট্রেন পরিচালনার স্বাভাবিক নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি উপলক্ষে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার নজির রয়েছে।

চার জোড়া ট্রেন ভাড়া নিতে জামায়াতকে কত টাকা গুনতে হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই কৌতূহলও প্রকাশ করেছে মানুষজন। কেউ কেউ বলছে, চার জোড়া ট্রেন ভাড়া করতে ৫০ লাখ টাকার মতো গুনতে হয়েছে জামায়াতকে। তবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ উপলক্ষে তারা প্রায় ৩২ লাখ নগদ টাকায় বিশেষ ট্রেনের ভাড়া অগ্রিম পরিশোধ করেছে, যার ফলে রেলের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা