ফিরে দেখা: ১৭ জুলাই ২০২৪
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৫ ১১:৪০ এএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৫ ১৬:১৬ পিএম
গত বছরের ১৭ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনে সারা দেশে নিহতদের মাগফিরাত কামনায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে গায়েবানা জানাজা আদায় করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন ভোরে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তাড়িয়ে দেন এবং ক্যাম্পাসকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেয়। সরকার কোম্পানিগুলোকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
গত বছরের এদিন
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ছিল সরকারি ছুটি। তবু গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিলকে কেন্দ্র
করে বিভিন্ন এলাকায় কোটাবিরোধীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের
দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আহতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। আন্দোলনকারীরা
এদিন রাজধানীতে মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের কাজলা অংশের টোলপ্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সড়কের
শনির আখড়া ও কাজলার মধ্যবর্তী স্থানে অন্তত ২০টি জায়গায় মধ্যরাত পর্যন্ত আগুন জ্বলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলন। গায়েবানা জানাজা শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড
নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য বাসভবনের সামনে জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা।
গায়েবানা জানাজা
শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ
তাদের বাধা দেয় এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় সেখানে বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, পুলিশ ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশ
পথে শিক্ষার্থীদের আটকে দিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ার
গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়
মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে
শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য
ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক
শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিন বিকালে ঢাকা
মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ টিএসসি এলাকায় গিয়ে
বলেন, পুলিশ হল খালি করার অনুমতি পেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল না ছাড়লে কোনো ছাড়
দেওয়া হবে না।
এদিকে শিক্ষার্থীদের
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি-র্যাব ও সোয়াতের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ,
খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের
দাবিতে ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ (সর্বাত্মক অবরোধ) কর্মসূচি
ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই কর্মসূচিতে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু
বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এদিন তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ আদালতের
রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ
সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না।
দলীয় নেতাকর্মীদের
প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের
অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে।
এদিন বিএনপি মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গায়েবানা জানাজায় অংশ নিতে মুসল্লিদের বাধা দেওয়া
হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে আলোচনার মাধ্যমে কোটা সমস্যার সমাধান করতে পারত। তা না করে
বর্বরভাবে হামলা করে মানুষ হত্যা করছে।
এদিন রংপুরের
পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদকে দাফন করা হয়।