জবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৫২ পিএম
বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে ফাঁকা হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার রাস্তা। ছবি: প্রবা
রাজধানীর গোলাপবাগে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের দিন ফাঁকা হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার রাস্তা। অন্যান্য দিনের তুলনায় শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। মাঝেমধ্যে চলছে দুয়েকটি বাস, মোটরসাইকেল বা রিকশা। লোকজনের চলাচলও চোখে পড়ার মতো নয়। আতঙ্কে অল্পকিছু খাবারের দোকান ছাড়া বাকি দোকানপাটও বন্ধ।
শনিবার সকাল থেকেই পুরান ঢাকায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। এতে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে। অন্যান্য দিনে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের আধিক্য থাকলেও শনিবার তা ছিল না। সদরঘাট থেকে দীর্ঘ সময় পরপর একটা করে বাস চললেও সেটি উল্লেখ্যযোগ্য নয়। রিকশা চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাসস্ট্যান্ডে বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হলেও তা চলাচল করছে না। এতে জরুরি কাজ বের হওয়া নাগরিকরা যানবাহনের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন। যাত্রী না থাকায় বাস চলছে না বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়া আবুল হোসেন বলেন, ‘বাইরে এসে দেখি তেমন গাড়ি চলছে না। রিকশাও খুব একটা চোখে পড়ছে না। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও রিকশা পাচ্ছি না।’
অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়া সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাস তো পাচ্ছিই না। রিকশা পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে। আমাদের মতো ছোট চাকরিজীবীরা কীভাবে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করবে?’
সদরঘাট থেকে চলা সাভার পরিবহনের লাইনম্যান মইনুল হোসেন বলেন, ‘আজ যাত্রী নেই। তাই তেমন বাস চলছে না। কাউন্টার থেকে সকাল থেকে মাত্র দুইটি বাস ছেড়ে গেছে।’
এদিকে খাবারের দোকান ছাড়া অন্য কোনো দোকানপাটও খোলা হয়নি। অনেকটা আতঙ্কেই তারা দোকান খুলেননি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কিছু ব্যবসায়ী দোকানের সামনে এসে অপেক্ষা করলেও দোকান খুলবেন কি না সেটি নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের দোকানগুলোও বন্ধ রয়েছে। পাটুয়াটুলিতে চশমা ও ঘড়ির মার্কেটে অল্প কিছু দোকান খোলা হলেও বেশিরভাগই বন্ধ। পাইকারি কাপড়ের মার্কেটেও একই অবস্থা। ফুটপাতেও নেই হকারদের কোনো দোকান।
সদরঘাটের গ্রেটওয়াল মার্কেটের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরে মানুষজনই নেই, দোকান খুলেই বা কি করব? ক্রেতা না হলে তো আর দোকান খুলে বসে থেকে কোনো লাভ নেই।’