দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টনের মুক্তিভবনে সিপিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ১০ তারিখের সমাবেশকে ঘিরে গণগ্রেপ্তার ও গায়েবি মামলার দায়েরের ঘটনা জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এহেন পরিস্থিতিতে পুলিশের বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, গুলি করে হত্যা ও নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সাত্তার, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, সিপিবির সহসাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষসহ বাম জোটের অন্য নেতারা।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-গুলি ও পরে তাদের নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্র আরেকবার উন্মোচিত হয়েছে। পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধের পর গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে বিএনপির জনসভার স্থান নিয়ে সমঝোতার আসার খবর শুনে মানুষ যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল, তারপরেই গভীর রাতে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুনরায় জনমনে উৎকণ্ঠা বেড়ে গিয়েছে।’
সিপিবি ও বিএনপির সমাবেশে বাধা দানের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘সিপিবির সমাবেশে সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশের হামলা, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে যানবাহন বন্ধ করে বাধা সৃষ্টি ও ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর ন্যক্কারজনক ভূমিকা ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব গোটা দেশের জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ঢাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনসভার স্থান নিয়ে সরকার বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে মূল সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি আড়াল করে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন, ব্যাংক ডাকাতি, অর্থ পাচার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জনজীবনের সংকট নিরসনে সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা করছে।’
আওয়ামী লীগের এক সভায় দলপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন করতে নেতাকর্মীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তারও নিন্দা জানান বাম জোট নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন –যে হাত দিয়ে মারতে আসবে সেই হাত ভেঙে দিতে হবে, যে হাত দিয়ে আগুন দিতে আসবে সেই হাত আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে। এ ধরণের বক্তব্য সংঘাত-সংঘর্ষকে আরও উসকে দেবে। এ বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ভঙ্গেরও শামিল। আমরা সরকারের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’
বিএনপি অফিসে বোমাবারুদ মজুদ করে রাখার যে অভিযোগ আনা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে তাও ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেছে বাম জোট।
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যানজট ও জনদুর্ভোগের যে দাবি করেছে পুলিশ, তার নিন্দা জানিয়ে প্রিন্স বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন রাস্তা বন্ধ করে বড় সমাবেশ করে তখনও তো ব্যাপক জনদুর্ভোগ ও যানজট সৃষ্টি হয়। সেটা কী সরকারের চোখে পড়ে না?’
সভায় বিএনপি অফিসে হামলা, মকবুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার ও মির্জা ফখরুল-মির্জা আব্বাসসহ গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবি জানান বাম জোট নেতারা।
সভা শেষে রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন-লুটপাট, অর্থ পাচার ও ব্যাংক লুটের বিরুদ্ধে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ওইদিন বিকেলে ঢাকার পল্টন মোড়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবেন তারা।