প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:৪০ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:৪৬ পিএম
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানের সড়কে বুধবার বসে পড়েন মির্জা ফখরুল। ছবি : প্রবা
১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
একই সঙ্গে তিনি বুধবার দলীয় অফিস থেকে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং এক নেতার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বিজয়নগর মোড়ে গেলে মির্জা ফখরুলকে বাধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি পার্টির মহাসচিব। আমাকে আমার পার্টির অফিসে যেতে দেওয়া হলে না।’ মির্জা ফখরুল এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিএনপি অফিসকে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের যেতে দিন।’
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় একজন প্রাণ হারান। আহত হন অন্তত ২৫ জন।
এক পর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘কোনো রকম কাউকে উসকানি দেওয়া হয়নি। এরপরও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। বিএনপির পার্টি অফিসের তিনতলা থেকে হাতবোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা আহত হন। এরপর জননিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান চালানো হয়। বিএনপির পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা ও ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো নাশকতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য আনা হয়েছিল।‘
এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পুলিশ এসব বোমা রেখেছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নসাৎ করতে সরকার পরিকল্পনা করে এটি করেছে। এটি সরকারের হীন পরিকল্পনা। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য, মানুষর অধিকারকে ধ্বংস করবার জন্য এগুলো করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার নিজের অফিসে যদি যেতে না পারি, তাহলে কী করে একজন রাজনৈতিক দলের নেতার অধিকার কাজ করবে? গণতন্ত্র কাজ করবে? একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি তার সাংবিধানিক অধিকার হচ্ছে সে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। এখানে গণতন্ত্র তো দূরের কথা, এসব দেখলে মনে হয়, মানুষ একটি সভ্য সমাজে বাস করছে না।’
মির্জা ফখরুল পুরান ঢাকায় সিএমএম আদালতে হাজিরা দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বিজয় নগরের নাইটিঙ্গেল মোড়ে যান। কিন্তু সেখানে পুলিশ তাকে বাধা দেয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যদের প্রবেশে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘এটা ক্রাইম সিন এলাকা। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এতে অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একজন সাধারণ মানুষ মারা গেছেন। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে এই এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এদিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল মর্গে মকবুল হোসেনের মরদেহ দেখতে গিয়েছিলেন মহাসচিব। তিনি মকবুলের স্ত্রী হালিমা ও মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম।
বিএনপি দাবি করেছে, নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে গুলিতে নিহত মকবুল হোসেন পল্লবী ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।