বললেন মুজিবুর রহমান
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ২৩:১০ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৫ ২৩:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, এটিএম আজহারুল ইসলামের বিচার একটি সুবিচার হয়েছে। যারা জামায়াত নেতাদের বিচারের নামে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে ওই দল ও তাদের সঙ্গে যারা জড়িত সবার বিচার হওয়া উচিত। আমরা সরকারকে বলব- আগে বিচার হবে, এর পর সংস্কার, এর পরে নির্বাচন হতে হবে।
শনিবার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াত আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আগের গুলো নির্বাচনই ছিল না। ২০১৪ সালে হলো বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হলো এবং ২০২৪ সালে নিজেরা নিজেরা ভোট দিয়ে ডামি নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন চায়, তবে যেনতেন নির্বাচন চায় না।
তিনি বলেন, আমার ভোট আমি দিব, যাকে ইচ্ছা তাকে দিব। কিন্তু তাদের স্লোগান ছিল তোমারটাও আমি দিব। এভাবে তারা ভোটকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অতএব ভোট ব্যবস্থা ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে জীবন্ত করতে হবে। মৃত গণতন্ত্র মৃত ভোট ব্যবস্থা দিয়ে দেশে নির্বাচন হলে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না। সেই জন্য আমরা সরকারকে বলব রিফরমেশনের আগে নির্বাচন হবে না। বিচারের আগে নির্বাচন হবে নাÑ এটা আমরা জোর গলায় বলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মদিনার আদলে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। আমরা দেশে কুরআনের আইন চাই। কুরআনের আইন চালু হলে দেশের শান্তি ফিরবে। কুরআনের আইন ছাড়া শান্তি হবে না। তাই সৎ লোকজন সংসদে যেতে পারলেই কুরআনের আইন চালু হবে। এ সময় তিনি কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
দুই দশক পর খোলা মাঠে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর এ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সামিউল হক ফারুকী, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মোসাদ্দেক আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রোকন রেজা শেখ, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন, সদর জামায়াতে ইসলামীর আমির কারী নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আল মামুনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্মী সম্মেলন শুরু হয়। এর আগেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অনুষ্ঠান আসতে থাকেন। জনসমুদ্রে পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল।