প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৫ ১৪:৫৭ পিএম
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে গণমাধ্যমকে সরিয়ে দিয়ে নিরীহ আল্লাহ ও নবীপ্রেমীদের উপরে ৫ মে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শেখ হাসিনার তৎকালীন রক্ষী বাহিনী। হেফাজত নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের উপর পুলিশ র্যাব এবং বিজিবির ত্রিমুখী আক্রমণ এবং নির্মম ও নিষ্ঠুর গণহত্যা আমরা ভুলি নাই। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আদেশে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতকেও হার মানিয়েছে।
সোমবার (৫ মে) সকালে পল্টনস্থ শফিউল আলম প্রধান মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর জাগপা আয়োজিত ‘৫ মে শাপলা -২০১৩ গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনা ও তার দোসর’দের বিচারের দাবিতে সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতা হারানোর ভয় নয় বরং সে রাতের গণহত্যার পিছনে সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত ছিল। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাসবিহ ও জায়নামাজ হাতে নিরস্ত্র আলেম ওলামাদের উপরে অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী এবং প্রশাসন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেড় লাখের বেশি গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল, ৩৬৭ বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছিল, ৭৫০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশগ্রহণ করেছিল গণহত্যায়, ৬১ জন শহীদের নাম প্রকাশ করেছিল অধিকার সংগঠন, তাও শেখ হাসিনা পতনের ৯ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আপনারা তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারেন নাই। কথাবার্তা পরিষ্কার, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করুন। ৫ মে শাপলা গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করুন।
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর উপরে সন্ত্রাসী আক্রমণের নিন্দা ও দ্রুততম বিচারের দাবি করেন রাশেদ প্রধান।
ঢাকা মহানগর জাগপা আহ্বায়ক শ্যামল চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম হাসুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফিরোজ, যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, ক্রীড়া সম্পাদক জনি নন্দী, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর প্রমুখ।