প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:২৭ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৩৬ পিএম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : প্রবা
আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের জন্য সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তুরাগতীরের বিকল্প প্রস্তাব দিলে তা বিবেচনা করে দেখা হবে বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন।
রবিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো স্থানে সমাবেশ করব এটা আমার সাংবিধানিক অধিকার। এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। সেখানে আগ বাড়িয়ে নাশকতা হবে বলে আমার সাংবিধানিক অধিকারকে আপনারা লংঘন করছেন, কেড়ে নিচ্ছেন। আমরা ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করব সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে।’
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছেন। দয়া করে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। আমরা যে নয়টি সমাবেশ সম্পূর্ণ করেছি, ঠিক একইভাবে ঢাকার সমাবেশ সম্পূর্ণ করব।’
ফখরুল বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার এক সর্বনাশা প্রতিশোধস্পৃহায় মেতে উঠেছে। নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য একের পর এক চক্রান্তজাল বিস্তার করে চলেছে। আওয়ামী সরকারের হাতে কখনোই গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকেনি। এদের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রয়েছে গণতন্ত্রের বিনাশ ঘটিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের।’
ঢাকার গণসমাবেশ বানচাল করার জন্য সরকারের নানামুখী দমননীতি এখন সর্বসাধারণের নিকট পরিষ্কার হয়ে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘গতকাল বিএনপির চেয়ারপার্সন, গণতন্ত্রের মাতা, সর্বাধিক জনপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়ার বাসার সামনে সেই বালির ট্রাকের কায়দায় চেকপোস্ট-ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ অবরোধ করে রেখেছে। এটি দেশনেত্রীর উপর নিপীড়নের আরেকটি নতুন মাত্রা।
‘আমি সরকারের এহেন ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েসি রায়ে কারারুদ্ধ রেখে, চিকিৎসার সকল পথরুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী সরকার। তাঁর বাসভবন অবরোধ করে এবং জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে থেকে চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড তুলে নেওয়ার জোর দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
আইজিপির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশের আইজি বলছেন, ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তাহলে কেন এই নাটক অভিযান? সরকার এক সুদূরপ্রসারী অশুভ মাস্টারপ্লানের পথে হাঁটছে। ইতোমধ্যেই জনগণের নিকট সুষ্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার একটি নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। কিন্তু সরকারের এতে কোনো লাভ হবে না। জনগণ দিবালোকের মতোই সবকিছু অবলোকন করছে।’
আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পেছনে সরকার পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশেও পুলিশ গ্রেফতার ও হয়রানি করেছে, পথে পথে বাধা দিয়েছে, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সহিংস আক্রমণ চালিয়েছে, তার পরেও জনতার স্রোত ঠেকাতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘সরকার জঙ্গিবাদের কথা বলে জঙ্গি সৃষ্টি করতে চায়, অগ্নি সন্ত্রাসের কথা বলে অগ্নি সন্ত্রাস করতে চায়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।