চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০২ পিএম
আবদুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। ছবি : প্রবা
কফিনবন্দি হয়ে চট্টগ্রামে ফিরেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হেলিকপ্টারটি চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। বিএনপির সাবেক এই পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে একনজর দেখতে শত শত নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী ভিড় করেন।
এম এ আজিজ স্টেডিয়াম থেকে আবদুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ বন্দর নগরীর কাজির দেউড়ির ভিআইপি টাওয়ারের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরদেহ রাতে ভিআইপি টাওয়ারের বাসভবন রাখা হবে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মরদেহ নেওয়া হবে। পরে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। সেখান থেকে মরদেহ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন মাঠে রাখা হবে।
দুপুর ১টায় মরদেহ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ময়দানে নেওয়া হবে এবং বাদ জুমা বেলা আড়াইটায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ বাদ আসর রাউজান গহিরা হাইস্কুল মাঠে জানাজা শেষে গহিরায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন আবদুল্লাহ আল নোমান। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালেও নির্বাচনে জয়ী হয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
তবে ষাটের দশকের শুরুতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকেরও তিনি দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ছাত্রজীবন শেষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাত ধরে যোগ দেন শ্রমিক রাজনীতিতে। পূর্ববাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছিলেন। গোপনে ভাসানীপন্থি ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত হন। ১৯৭০ সালে তাকে ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন আবদুল্লাহ আল নোমান। মুক্তিযুদ্ধ শেষে আবারও ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। পরে ১৯৮১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন।