নতুন রাজনৈতিক দল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:৩৪ এএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক কমিটি (জানাক) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। জাতীয় সংসদ সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সব রাজনৈতিক দল, শহীদ পরিবার ও অভ্যুত্থানের আন্দোলনে সম্পৃক্ত সবার উপস্থিতিতে এদিন বেলা ৩টায় দল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুজনই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছেন উদ্যোক্তারা। শীর্ষ দুই পদে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের নাম অনেকটাই চূড়ান্ত। অন্য পদগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা। গতকাল বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের অন্য পদগুলোতে কারা বসতে যাচ্ছেন, তা চূড়ান্ত হয়নি। সংগঠনের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতাদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলটির নেতৃত্ব দিতে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। শীর্ষস্থানীয় পদ ও কমিটিতে কারা থাকছেন, তা নিয়ে শেষ সময়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা।
জানাক সূত্র জানিয়েছে, আত্মপ্রকাশের দিন দলের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব এই আকারে কমিটি হবে। সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে কমিটির আকার বড় হতে পারে। আপাতত তা হতে পারে ১৫০ সদস্যের। পরে কমিটির আকার বাড়িয়ে ৩০০ করা হতে পারে।
আত্মপ্রকাশ হতে যাওয়া দলটির শীর্ষ দুই পদের পর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
একই সঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারোয়ার তুষার, আরিফুল ইসলাম আদীব, ডা. তাসনীম জারা, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, মনিরা শারমীন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, মোল্লা ফারুক এহসান, সামান্তা শারমিন, ডা. মাহমুদা মিতু, অনিক রায়, আকরাম হুসাইন, আলী নাছের খান, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালেহ উদ্দীন সিফাত গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত হবেনÑ এমন আলোচনাও শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, আবদুল হান্নান মাসউদ, সমন্বয়ক তারেকুল ইসলাম, নুসরাত তাবাসসুম, উমামা ফাতেমা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আসাদ বিন রনিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
দলের নাম কী হবে, তা এখন পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, নামের সঙ্গে নাগরিক শব্দটি থাকতে পারে। জনতা কিংবা বিপ্লবী শব্দটিও রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতীক হিসেবে মুষ্টিবদ্ধ হাত, কলম, শাপলা ফুল প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে। দলের পরবর্তী সম্মেলন হতে সময় লাগতে পারে দুই বছর। সে হিসাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও এই আহ্বায়ক কমিটিই দলের নেতৃত্বে থাকবে। তাই আহ্বায়ক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার চেষ্টা করছে সব পক্ষ।
সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন না জোনায়েদ ও রিফাত
এদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুজনই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। জোনায়েদ জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রিফাত যুগ্ম সদস্যসচিব।
জোনায়েদ গত সোমবার তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের নেতৃত্বে যেই নতুন রাজনৈতিক দলটি আসছে, সেখানে আমি থাকছি না। সে কথা আমি আরও সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছি দলের নেতাদেরকে। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ও জাতির নজর নতুন দলের ওপর নিবদ্ধ রাখতে নীরবতা বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু চারপাশের গুঞ্জন থামছে না। তাই স্পষ্ট করে রাখছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থেই প্রয়োজন। নতুন এই রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার দোয়া ও শুভকামনা রইল। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সততা ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হোক এই দল। দুর্নীতির সব সুযোগ বন্ধ করে নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হোক এই দলে।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর জুনায়েদের পোস্টটি শেয়ার করে রাফে সালমান রিফাত লিখেছেন, ‘২৮ তারিখে ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলে আমিও থাকছি না। তবে আমার রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকবে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল তাতে শর্টটার্মে খুব ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা রাখি না আপাতত। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে রাখি যে, রাজনীতি একটা লম্বা রেস। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময়ের জন্যই আমাদের এই রেসে টিকে থাকতে হবে। আমরা নতুন সেই বাংলাদেশের প্রত্যাশী, যেটা হবে সত্যিকার অর্থেই ডেমোক্রেটিক, ইনক্লুসিভ, বৈষম্যহীন এবং আধিপত্যমুক্ত। ঐক্যবদ্ধতা ও মধ্যমপন্থাই হবে আমাদের শক্তি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চলবে। আঞ্চলিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলবে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা জান দিয়ে লড়ব।