মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৫০ পিএম
বুধবার বিকালে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে জনসভায় বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। প্রবা ফটো
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকট ফজলুর রহমান বলেছেন, বিএনপিকে লাল চোখ দেখাবেন না। অবিলম্বে নির্বাচন দিন। এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ ভোট পাবে। দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। বিএনপিকে কোনো অবস্থাতেই বঞ্চিত করা যাবে না।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফজলুর রহমান।
অ্যাডভোকট ফজলুর রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে যদি অন্যকোন নিবার্চন করার ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবে। জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে এবং আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিএনপি কিছুতেই জাতীয় নির্বাচনকে বিলম্বিত হতে দেবে না।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে ফজলুর রহমান বলেন, দেশটা কুয়াশা হয়ে গেছে। আপনার কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ এটা আশা করে না। আপনি বাংলার সুসন্তান। আমি মনে করি দশটা মন্ত্রীকে যোগ করলে আপনি তার চেয়েও লম্বা। আপনি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী থাকার জন্য দেশটার সর্বনাশ কইরেন না।
আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে বলেই আমরা প্রথমে জাতীয় সরকারের নির্বাচন দিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ ভোট পাবে। সে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। বিএনপিকে কোনো অবস্থাতেই বঞ্চিত করা যাবেনা।
জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামাত ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে লিপ্ত বলে তিনি বলেন, এই দলটি বেঈমান ও মোনাফেকদের দল। অতীতে বিএনপির কাছ থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আরও বলেন, কেউ কেউ মনে করতেছে হাসিনা দিল্লি থেকে বৈজয়ন্তিমালা ট্যাংক নিয়ে আসব। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে দেখা যাবে না আমি বলে গেলাম।
তিনি আরও বলেন, দেশকে যারা নতুন করে পাকিস্তানের পথে নিয়ে যেতে চায় তাদের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চাই। আমরা কৃষক-শ্রমিকের বাংলাদেশ চাই। এ দেশকে পাকিস্তান বানাতে দেওয়া হবেনা। বিএনপির বিরুদ্ধে যে কোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তাদেরকে তাদের প্রতিহত করতে হবে। ভোটের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধকে যারা বিশ্বাস করে না তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো আপস নেই।
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রা পথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে। সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকেই জেলার ১৩ উপজেলার বিএনপি ও এর সংযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে জমায়েত হতে থাকেন। দুপুর থেকে মিছিল নিয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে জনসভায় দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুনসহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সদস্য লাইলা বেগম এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টায় জনসভা শুরু হয়। এর আগে দুপুর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার-ফেষ্টুনসহ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকে। বিকেল নাগাদ বিশাল স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামের পরিচালনায় জনসভায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, এডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, মো. রুহুল হোসাইন, সহ-সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান, এডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মো. আবু তাহের মিয়া, সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন, মো. আমিনুল ইসলাম আশফাকসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন।