রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:২২ পিএম
ছবি কোলাজ : প্রবা
রাজশাহীতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সামাল দিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি রাজশাহীবাসীর কাছে তুলে ধরছে বিএনপি। আর কোরআন-সুন্নার আলোকে দেশ পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ দুই দলের বাইরে রাজশাহীতে অন্য কোনো দলকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ তৃণমূলের কর্মী ও ভোটাররা বলছেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার নয়। দলয়ী নেতা বা প্রার্থী বাছাইয়েও দলগুলোকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান তাদের।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। এরই মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূলের কর্মীরা। তবে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. মো. কেরামত আলী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা প্রকাশ্যে দলীয় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। আমাদের নেতাকর্মীদের কারাগারে, নয়তো ফেরারি থাকতে হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। আমরা দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি কোরআন-সুন্নার আলোকে দেশ পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরছি জনগণের কাছে।
এদিকে বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা শঙ্কিত তাদের নেতাদের কোন্দলের কারণে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচন করতে গিয়ে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে। বিএনপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটে ঐক্যের সংকট রয়েছে। এক্ষেত্রে সব নেতাকে এক কাতারে আসতে হবে। তাহলেই দল সুসংগঠিত হবে। সেই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার দিকে নজর দিতে হবে। দলীয় প্রার্থী ও নেতা বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে দলকে।
দলের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা বলেন, এটি দ্বন্দ্ব নয়, তাদের মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতা। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের মাঝে নেতৃত্ব দেবার প্রতিযোগিতা আছে। দিন শেষে দল যাকে প্রতীক বা দায়িত্ব দেবে, তার হয়ে সবাই কাজ করবে।
বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবার নয়। অন্তর্বতী সরকারের রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে দ্রুত নির্বাচন ও তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
দলের মধ্যকার কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যাদের যোগ্যতা নেই, তারা যদি পদে বা নেতৃত্বে চলে আসে তবে দলের জন্যও দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে তাদের সংখ্যা নগণ্য। আগামীতে নতুন প্রজন্মই বিএনপিতে নেতৃত্ব দেবে।