নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:২১ পিএম
শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান। ছবি : সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মো. আলিফ নামে এক কিশোরকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম।
এর আগে আদালতের নির্দেশে বুধবার রাত ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলাটি করেন আহত আলিফের বাবা মো. অহিদ মিয়া।
মামলার আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ভাই জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক এমপি সেলিম ওসমান, ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরি ওসমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম মেম্বারসহ আরও ৫৬ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের ডাচ্বাংলা ব্যাংক এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার সময় সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ভাই জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে এবং শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরি ওসমান ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় মিছিলে হামলা চালায়। হামলায় তারা আগ্নেয়াস্ত্র, শর্টগান, পিস্তল, ককটেল, লাঠি, ইট-পাটকেল এবং ধারাল অস্ত্র ব্যবহার করে। হামলাকারীদের গুলি আলিফের বাম পায়ের হাঁটুতে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ট্রাস্ট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্ট্রারে নিয়ে যায়। ট্রাস্ট হসপিটালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আলিফকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তিনি আদালতে মামলার আবেদন করেন।
ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, ‘আমরা আদালতে নির্দেশে বুধবার গভীর রাতে মামলাটি থানায় দায়ের করেছি।’