প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:২০ পিএম
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা কথা বলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। প্রবা ফটো
পতিত সরকার সকল শিশুদের মেধা মনন ধ্বংস করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে কমলকলি আয়োজিত জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সেলিমা রহমান বলেন, এ প্রজন্মের বই থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তার মুক্তির চেতনা শিশুদের মনে ঠিকই রয়েছে। শিশু কিশোররা আমাদের দেশের ভবিষৎ নাগরিক, দেশকে পরিচালনা করবে। তাই তাদের সত্যিকারের ইতিহাস, চেতনাবোধ ছোট থেকেই চর্চা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন সত্য। তবে সেটার সঙ্গে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের কথাও স্মরণ করতে হবে। একজনের নেতৃত্ব দ্বারা কোনো দেশ কখনো প্রতিষ্ঠা হয়না। ভাষা আন্দোলনের শহীদ, শেরে বাংলা ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক সবার মাধ্যমেই দেশ গড়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর ৫ আগস্ট আমরা আবার স্বাধীনতা পেয়েছি, এটাও দীর্ঘ আন্দোলনের ফল। শহীদ জিয়া শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের মেধা বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। আর আজ লেখাপড়ার পরিবর্তে শিশু কিশোর গ্যাং নাম শোনা যায়, সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নাম শোনা যায়।
নারী ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় সংস্কারক ছিলেন জিয়াউর রহমান। গ্রাম সরকার, ফ্যামিলি প্ল্যানিং, সংসদে ৩০টি আসন, প্রাইমারিতে নারীদের নিয়োগ, পুলিশ বাহিনীতে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তিনি। দানবীয় সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বেঁচে থাকার অধিকার, ভোটের অধিকার সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল। ভারত সরকার সেই খুনীকে আশ্রয় দিয়ে দেশকে সাম্প্রদায়িক দেশ বলে প্রচারনা চালাচ্ছে, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলছে। তাদের ষড়যন্ত্র চক্রকে রুখতে হবে। বিএনপির সাড়ে তিনবছরের সংস্কারে দেশ আত্ননির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল। সংস্কার একবছর বা দুবছরে হয়না, সংস্কার হয় চলমান।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকমল বড়ুয়া বলেন, জিয়াউর রহমান শিক্ষক এবং শিক্ষাকে অধিক ভালোবাসতেন। তার সময়ে একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, নতুন কুড়ি শুরু হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক ও বিনয়ী হতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহীর অন্যতম সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্বাধীনতার প্রথম কণ্ঠস্বর জিয়াউর রহমান। তার আদর্শের আলোকে যদি এ দেশের শিশুদের গড়তে পারি, তাহলে এ দেশে আগামী প্রজন্ম অস্থির সময় থেকে মুক্তি পাবে। আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক বানানোর জন্য তিনি দূরদর্শী চিন্তা করেছিলেন। শিশু একাডেমী থেকে নতুন কুড়ি তিনিই তৈরী করেছিলেন। এসবের চর্চা ধরে রাখতে পারলে আজকের বাচ্চারা মোবাইলে আসক্ত হতোনা। ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে গেছে। পাঠ্যবই সংশোধনের সাথে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম খান, শেখ হাসিনা চেয়েছিলো খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যা করবে। কিন্তু খালেদা জিয়া দমে যাননি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে বলে আশা করি।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের রহমাতুল্লাহ বলেন, অস্থির একটি দুঃশাসন থেকে আল্লাহ তাআলা উদ্ধার করেছেন। যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন,আল্লাহ পাক তাদের কবুল করুন। জিয়াউর রহমানের নামে বিমানবন্দর, পার্ক, স্থাপনার সকল নাম মুছে ফেলা হয়েছে। অথচ পাক হানাদার বাহীনির মুখোমুখি দাড়িয়ে তিনি নিজের জিবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মুল আকাঙ্ক্ষাকে নষ্ট করেছিলো মুজিব বাহিনী।
উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনিকে সন্ত্রাসী বাহিনিতে পরিনিত করে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলো। মানুষের আন্দোলনে পলায়ন করলেও ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশ কিভাবে তাকে আশ্রয় দিল, সেটার উত্তর চাই? তাদের বিচার না হলে অদূর ভবিষ্যতে সাধারন জনগন কেউ রক্ষা পাবেন না। প্রায় ৬ লাখ টাকা পাচারকারী শেখ হাসিনা আমাদের যতো নেতাকর্মীদের গুম করেছে,তাদের সকলকে ফেরত চাই।
কমলকলির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাই সোহাগের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কমলকলির সভাপতি গোলাম কাদের। এভাড়াও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রহমতুল্লাহ, শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের অধ্যাপক সুকমল বড়ুয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল করিমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।