‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৫৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
২০২১ সালে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ নামের একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাদশের সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধীদের অপহরণ এবং কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ ভূমিকার তথ্যও উঠে আসে। প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে এবং ১ কোটি বার দেখা হয়। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবেক সেনাপ্রধান এবং তার ভাইদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেদনটিকে 'মিথ্যা' ও 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর, তথ্য ফাঁসকারী জুলকারনাইন সায়ের খানের ভাইকে রড দিয়ে পেটানো হয় এবং যারা সহায়তা করেছিলেন, তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
আল–জাজিরার প্রামাণ্যচিত্র ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’- প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার ডেসমন্ড ব্রাউনি কেসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ব্রাউনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন। এরপর ব্রাউনির পরামর্শে, লন্ডনের আইনি প্রতিষ্ঠান পেনিংটন মানচেস কুপারের বিশেষজ্ঞ জেরেমি ক্লার্ক–উইলিয়ামসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
সম্প্রতি গণভবন থেকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমসের উদ্ধার করা একটি নথিতে ওই যোগাযোগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
নথির তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শেখ হাসিনার প্রতিনিধিরা ক্লার্ক–উইলিয়ামসকে
জানান, আল–জাজিরার প্রামাণ্যচিত্রে প্রধানমন্ত্রীর সুনাম ‘ব্যাপকভাবে
ক্ষুণ্ন’ হয়েছে। তারা
বাংলাদেশ সরকার বা সেনাবাহিনী মানহানির মামলা করবে কি না, এমনকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত
কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মামলা করতে পারেন কি না এই বিষয়ে পরামর্শ নেন।
আল–জাজিরার প্রামাণ্যচিত্র
নির্মাণে যুক্ত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনাও ছিল। তবে,
বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলা না করে ফেসবুক ও ইউটিউবকে চাপ দিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি
সরাতে চেয়েছিল। তবে আদালতের রায়ের পরও দুটি প্রতিষ্ঠান তা সরিয়ে না দিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি
অব্যাহতভাবে প্রকাশ করেছে।
ডেসমন্ড ব্রাউনি সম্প্রতি আইন পেশা থেকে অবসরে গেছেন। তিনি সানডে টাইমসকে জানান, তার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী ২০২১ সালের মার্চে কোনো মামলা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে ক্লার্ক-উইলিয়ামসকে ই–মেইল ও ফোনকল করা হলেও তিনি কোনো জবাব পায়নি সানডে টাইমস।