রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৪৮ পিএম
বরগুনা বিএনপির কার্যালয়। প্রবা ফটো
২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলার ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আহ্বায়ক এবং তারিকুজ্জামান টিটুকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টিটু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলে ১৯ মাস পরও ১৭ এপ্রিল রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় ১০ মাস পরই কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে
অভিভাবক শূন্য থাকার কারণে দলে নেই শৃঙ্খলা, কর্মীরা যে যার মত দলীয় কাজকর্ম চালাচ্ছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলার বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। জেলা কমিটি না থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ কর্মীরা।
বিএনপির নেতারা আগামী কমিটিতে তরুণ, সাবেক ছাত্রনেতা এবং কর্মিবান্ধব ব্যক্তিদের নিয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের প্রত্যাশা করছেন।
বিএনপির নেতারা বলছেন, বিএনপির মত একটি জনপ্রিয় দলের জেলা পর্যায়ে কমিটি না থাকায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। এ সুযোগ নিচ্ছে অন্য দলগুলো। সরকার পতনের পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিতর্কিত কার্যক্রমের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা কমিটি না থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা হতাশ। জেলা বিএনপি নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনে ধুম্রজাল সৃষ্টি হচ্ছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রত্যাশী দুজন। তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, অপরজন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মাস্টার। সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীও দুজন। তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুজ্জামান মাহফুজ ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন হাসান শাহীন।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, জেলা কমিটি না থাকায় আমাদের দলীয় কার্যক্রম করতে সমস্যা হচ্ছে। মাথার উপর বটগাছ না থাকলে, মাথা লুকানোর মত ছায়া খুজে পাওয়া যায় না। তাই গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে জেলা কমিটি দেওয়া দরকার।
তালতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল হক বলেন, জেলা কমিটি না থাকায় দল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা উপজেলার ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে পারছি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির অর্থ কেলেঙ্কারি ও কমিটি বাণিজ্যেরে সঙ্গে বরগুনার একজন কেন্দ্রীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সত্যতাও পায় কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এ ছাড়া বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বলেছিলেন, তারা আর দল করবেন না। বিনিময়ে তারা গ্রেপ্তার ও মামলা থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন জেলা কমিটি গঠন কেন্দ্রকে এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। আর বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি অবশ্যই দালাল মুক্ত হবে এমনটা প্রত্যাশা করি।
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, ১৭ বছর পর বিএনপি মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। তাই দলের অতি উৎসাহী কিছু নেতারা বিশৃঙ্খলা করছেন। তবে জেলা কমিটি না থাকার কারণে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সফিকুজ্জামান মাহফুজ বলেন, ‘কমিটি না থাকায় দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় কিছুটা ছন্দঃপতন হয়েছে। দলকে গতিশীল করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা কমিটি গঠন করা জরুরি।’
জেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রত্যাশী ফজলুল হক মাস্টার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিতর্কিত ও অসাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জেলা কমিটি না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা হবে।
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, কমিটি না থাকার কারণে যারা বিতর্কিত কার্যক্রম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
জেলা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক পাঁচ নেতা পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, আমিও শুনেছি, তারা বরগুনা পুলিশ সুপারের কাছে কোনো দিন রাজনীতি করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন। একজন সাবেক শিবির নেতা এখন বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।