কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৪৭ পিএম
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেন। প্রবা ফটো
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, বিগত প্রায় ১৬টি বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে দেশকে শোষন করেছিল। তারা দেশ প্রেমের কথা বলে লুটপাট চালিয়েছিল। তাদের চুরি ও লুটপাটের কথা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। পিয়নের যদি ৪০০ কোটি টাকায় হয় তাহলে মালিকের কত? বিগত সাড়ে ১৫ বছরে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। যা বাংলাদেশের পাঁচটি বাজেটের সমান।
তিনি বলেন, এক রুপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে শেখ হাসিনা ৫৭ হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন। একটা পদ্মা ব্রিজ তৈরি করতে যে টাকা খরচ করা হয়েছে সে টাকা দিয়ে চারটা ব্রিজ করা সম্ভব। তার মানে তারা তিনটা ব্রীজের টাকা চুরি করেছেন। এভাবে তারা দেশটাকে ফোকলা করেছেন। ব্যাংকগুলোকে শেষ করে দিয়েছেন। আমরা শুনেছি ইসলামী ব্যাংকের টাকা চুরি করেছেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। চুরির দায়ে তারা লন্ডনেও ধরা পড়েছে। শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে লন্ডনের সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, মন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন সেখানকার দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এটি জাতির জন্য বড় লজ্জা।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিষ্ট সরকার পালিয়ে গেলেও দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল বন্ধ হয়নি। এটা আগে একদলের কাছে ছিল, এখন আরেক দলের হাতে গেছে।
তিনে বলেন, আওয়ামী লীগ বাজার সিন্ডিকেট সৃষ্টি করেছিল যা বর্তমান সরকারও ভাঙতে পারেনি। সরকারকে আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা বলেছে সিন্ডিকেটের হাত বদল হয়েছে মাত্র। আগে একদল সিন্ডিকেট চালাতো এখন আর এক দল সে দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা সরকারকে বলেছি এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, তাদের হাত ভেঙে দিতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের ওপর আর অর্থনৈতিক শোষণ চালানো যাবে না।
প্রায় আধা ঘন্টার বক্তব্যে জামায়াত আমির আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি রুপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ জামায়াতকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসার সুযোগ দিলে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, ইজ্জতের হেফাজত করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটা সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এদেশে আর কোন মেজরিটি মাইনরিটির কথা শুনতে চাই না। বাংলাদেশে যারা জন্মগ্রহণ করবেন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তারা এদেশের সন্তান।
তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীরা বেকায়দায় পড়বে বলে দেশে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার। কাউকে জোর করে বোরকা পরানো হবে না। মা বোন যারা সন্তুষ্টির সাথে বোরকা পরবেন, পর্দা করতে চাইবেন তারা পরবেন। অন্য ধর্মের নারীদের আমি কিভাবে বোরকা পরতে বলব। শুধু হিন্দু নারী নয়, মুসলমান নারীদেরও বোরকা পরতে বাধ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, এই কল্যাণ রাষ্ট্রে পূর্ণ যৌবনা নারী একা রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন কোন জালিমের পক্ষে তার দিকে চোখ তুলে তাকানো সম্ভব হবে না। আল্লাহর আইন সমস্ত মানুষের জন্য শুধু মুসলমানদের জন্য নয়।
কুষ্টিয়া জেলা জামাতের আমির আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম ও বিভিন্ন জেলা জামাতের আমিরগণ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনকে ঘিরে জামাত ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতা কর্মীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। সকাল নটার আগেই সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত এ কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে বেশ কয়েকদিন আগে থেকে জামায়াতের কর্মীরা জেলা অভ্যন্তরীণভাবে প্রচারণা চালান। এমনকি কুষ্টিয়া শহরের অনেক হিন্দু পরিবারের সদস্যদের কেউ তারা এই সম্মেলনে যোগদানের আহ্বান জানান। এসব বাড়িতে জামাতকর্মীরা কর্মী সম্মেলনের কার্ডও সরবরাহ করেন।