প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:২৭ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৩৪ পিএম
ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহায়তা নিতে অন্তর্বতী সরকারের প্রতি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা বিজেপি সরকারের উস্কানিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নিষ্ক্রিয় উপস্থিতিতে আগরতলার কুঞ্জবনে অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে নারকীয় হামলা, জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে আগুন, পতাকার খুঁটি ভাঙচুর, সহকারী হাইকমিশনের অভ্যন্তরের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাইকমিশনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া, সেখানে আমাদের মানুষদের নিরাপত্তার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভারতের উগ্রবাদী হিন্দুদের বলব- আপনাদের বন্ধুত্ব তো শেখ হাসিনার সঙ্গে। সেই বন্ধুত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যে প্রকাশ্যে শত্রুতায় নেমেছেন সেটা সৎ প্রতিবেশীসূলভ আচরণ নয়। হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে আপনাদের বন্ধু হাসিনা আপনাদের কাছে আশ্রয় পেয়েছে…. তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। মনে রাখবেন বাংলাদেশ লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে দিল্লীর দাসত্ব করতে নয়। যে সেবাদাসী হতে চেয়েছিলেন সেই দাসী এখন আপনাদের পদতলে।’
ক্ষমতা হারিয়ে বিতাড়িত হওয়ায় হাসিনার চেয়ে ভারতের বিজেপি সরকার ও উগ্রবাদীরা বেশি পাগল হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারতেই তো বাংলাদেশের মিশনগুলো অরক্ষিত। নিরাপত্তাহীন এবং বাংলাদেশের মিশনের একজনকে আমরা ভিডিওতে ভাইরাল হতে দেখেছি যে, কী বেদম প্রহার করা হচ্ছে। তারপরেও মমতা বলবেন, বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী দরকার।’
একই সঙ্গে কাশ্মীর, আসাম ও মনিপুরেও জাতীয় সংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো প্রয়োজন বলে মনে করেন রিজভী।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমদের ওপর নির্যাতন নৈমেত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হিসেবে হিসেবে সেখানকার মুসলিমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগসমূহ তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান রিজভী।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারতের মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হচ্ছে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করো, বাংলাদেশ যাতে সঠিকভাবে চলতে না পারে… এটাই হচ্ছে তাদের আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যান এবং এখানে বাইরের একটি দেশ এর মধ্যে জড়িত বলে বাংলাদেশের জনগণ মনে করে।’
‘দুঃখের বিষয় হলো কিছু ধর্মীয় উগ্রবাদী ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ভারতের চরম সাম্প্রদায়িক সংগঠন বিজেপির প্রত্যক্ষ মদদে-উস্কানিতে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ অভিযোগ করেন রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, তাহমিনা রুশদীর লুনা, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আসাদুল করীম শাহিন, বেলাল আহমেদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের পরে কার্যালয়ের সামনে থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে ভারতে বাংলাদেশের মিশনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি। এতে নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী।